জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক ২০২৫ সালের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পাঠ্যপুস্তকের প্রচ্ছদ থেকে "আদিবাসী" শব্দযুক্ত গ্রাফিতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম, বাংলাদেশ (টিএসএফ)।
টিএসএফ-এর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রন বিকাশ ত্রিপুরার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি অসম্মানজনক, অপমানজনক এবং বৈষম্যমূলক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।
গত ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে "স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি" নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে কিছু শিক্ষার্থী এনসিটিবি ভবন ঘেরাও করে। তারা "আদিবাসী" শব্দযুক্ত গ্রাফিতি থাকা প্রচ্ছদটি বাদ দেওয়ার দাবি জানায়। এনসিটিবি তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইন ভার্সন থেকে ছবিটি সরিয়ে নতুন প্রচ্ছদ প্রকাশ করে।
টিএসএফ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রন বিকাশ ত্রিপুরার স্বাক্ষরিত প্রেস বিবৃতিতে বলেন, "এনসিটিবি-এর এমন সিদ্ধান্ত আদিবাসীদের অস্তিত্ব এবং মর্যাদার প্রতি সরাসরি আঘাত। এটি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর দাবি মেনে নেওয়ার নজির স্থাপন করেছে।"
ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ ফোরামের মতে, "আদিবাসী" শব্দ ব্যবহারকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমতলে ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, গারোসহ ৫০টির বেশি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে। তাদের সংগ্রামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি পাঠ্যপুস্তকে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে দাবি জানিয়েছে টিএসএফ।
ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম অবিলম্বে এনসিটিবি-এর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং "আদিবাসী" শব্দযুক্ত গ্রাফিতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, আদিবাসীদের সংগ্রামের ইতিহাস ও পরিচিতি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত