শেখ শফিকুর রহমান,নিউইয়র্কঃ আমেরিকা তথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ছিল নিউইয়র্ক শহর।যা অনেকে জানেন অথবা জানেন না।শহরের ডাউন টাউনের ওয়াল স্ট্রিটে ফেডারেল ভবন অবস্থিত আছে এখনো।আমেরিকা বিট্রিশ ঔপনিবেশিক থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৭৮৫ থেকে ১৭৯০ সাল পর্যন্ত শহরটি সমগ্র আমেরিকার রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
পরবর্তীতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়।নিউইয়র্ক শহরের পুর্ব নাম ছিল নিউ আমস্টারডাম যেটি ছিল ডাসদের ঔপনিবেশিক।পরবর্তীতে বিট্রিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে চলে যায় এবং এর নাম পরিবর্তন করে নিউ ইয়র্ক নামকরণ করা হয় যা এখনো সেই নামেই খ্যাত হয়ে আসছে।নাবিক কলম্বাস যখন এই অঞ্চলে প্রবেশ করেন তখন তিনি রেড ইন্ডিয়ানদের দেখতে পেয়েছিলেন।সেই জাতি এখন আর নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করছেন না।
বিশ্বের রাজধানী খ্যাত শহরটিতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী ও সকল জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে।শহরটি আমেরিকার প্রথম রাজধানী শহর হলেও এখন বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে আছে বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার আর ব্রুকলিন ব্রিজের জন্য।
টাইমস স্কয়ার এমন এক জায়গা যেখানে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে সবসময় সেটা দিনে কিংবা রাতে গ্রীষ্মে অথবা শীতে।এমন কোনো সময় নেই যেখানে পর্যটকদের ভিড় পরিলক্ষিত হবেনা।বিশ্ব বিখ্যাত স্থানটিতে দেখার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য আলোকসজ্জার সাইনবোর্ড।মূলত আলোর ঝলকানি দেখতেই সেখানে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয় সারাক্ষণ।
বছরের শেষে থার্টি ফার্স্ট নাইট উৎসব উপভোগ করতে এখানে জড়ো হন হাজার হাজার পর্যটকরা।টাওয়ারের উপর থেকে ইংরেজি সাল লেখা একটি বল ড্রপ করা হয় রাত বারোটায়।বছরের এই একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করেন টাইমস স্কয়ারে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।
আমেরিকায় আসার আগে আমার মনে একটা প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল জীবনে কবে বিশ্ব বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার দেখব।আমি যখন ২০১৯ সালে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে আসলাম।তখন সবচেয়ে বেশি দেখার আগ্রহ ছিল টাইমস স্কয়ার গিয়ে দেখা।আমার মনে আছে আমার এক বড় ভাইয়ের সাথে রাত প্রায় বারোটায় তার গাড়িতে করে গিয়েছিলাম দেখতে।তিনি ম্যানহাটন শহরের আলো ঝলমলে সেই স্থানটিতে নিয়ে বললেন এই হলো টাইমস স্কয়ার।
আমি দেখলাম চারদিকে শুধু ডিজিটাল সাইনবোর্ডের ছড়াছড়ি।আর কিছুই দেখছিনা।মনে হলো কোনো ভুল জায়গায় চলে আসলাম নাতো।আমার মুখের দিকে বড় ভাই বললেন এটাই টাইমস স্কয়ার।আলোর ঝলকানি ছাড়া আর কিছুই নেই দেখার।মনের মধ্যে থাকা ভুল ভাঙল।ভেবেছিলাম সেখানে গেলে হয়তো অন্য কিছু দেখতে পাবো।
এখন ইয়েলো ট্রেক্সী চালানোর সুবাদে প্রতিদিন সেখানে প্যাসেঞ্জার নিয়ে যাওয়া হয় আর সাথে টাইমস স্কয়ারের সৌন্দর্য দেখা হয় বিভিন্ন ভাবে।যারা এখনো টাইমস স্কয়ারে আসেননি তাদের ধারণা নিশ্চয়ই আমার মতোই হবে।এটা অনেকটা দিল্লী ক্যা লাড্ডু যে খ্যায়া সে পচত্যায়া য নেহি খ্যায়া ওবি পচত্যায়া।
অপর দিকে ম্যানহাটন শহরের হাডসন নদীর উপর নির্মিত ঝুলন্ত ব্রিজ ব্রীজ।যা দিয়ে ম্যানহাটন থেকে ব্রুকলিন যাওয়া যায় গাড়ি অথবা পায়ে হেঁটে।আর এই ব্রিজ দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের ভিড় থাকে এখানে।কেউ বা সাইকেল চালিয়ে কেউ বা পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে থাকেন।এই ব্রিজের জন্য সারা বিশ্বে সুনাম রয়েছে নিউইয়র্ক শহরের।পর্যটক যারা তারা নিশ্চয়ই এই ব্রিজের উপর নজর রাখেন।
নিজেকে ব্রিজের সাথে সেলফি তুলতে ভালোবাসেন এখানে আসা হাজারো পর্যটকরা।ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে ম্যানহাটন শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে খুবই ভালো লাগে।এখানে দাঁড়িয়ে শহরের সুউচ্চ দালানের দৃশ্য দেখলে মন ভরে যায়।সাথে ব্রিজ থেকে দেখা যায় নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম আকর্ষণ স্ট্যাচু অব লিবার্টি।
ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা স্মৃতি নিয়ে যান সেলফি তুলে। যুগযুগ ধরে নিউইয়র্ক শহরে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে আসছে সেই আইকনিক স্পট গুলো।বিশ্ব রাজধানীর সৌন্দর্য উপভোগ করা প্রত্যেক পর্যটকের থাকে মুল স্বপ্ন।
আর এই সৌন্দর্য উপভোগ কেউ করতে পারেন আর কেউ সুযোগের অভাবে করতে পারেন না।আমেরিকার প্রথম রাজধানী নিউইয়র্ক শহরের সৌন্দর্য আমরা যারা উপভোগ করতে পেরেছি বলতেই হয় ভাগ্যবান মধ্যে আমরা অন্যতম।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত