এস এম রুবেল (ফরিদপুর): ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতী নদী যেন এক ভয়ঙ্কর দৈত্যের রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি আর জীবনের সমস্ত স্বপ্ন। টগরবন্দ ইউনিয়নের শিকারপুর, টিটা পানাইল, কুমুরতিয়া, ইকড়াইল ও টিটা—এই পাঁচটি গ্রামে দেড় কিলোমিটারজুড়ে চলছে অব্যাহত নদীভাঙন। নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।
নদীভাঙনে ঘরহারা সুপ্তমতি মন্ডল, কান্নাজড়িত গলায় বলেন, “ওই মধুমতী নদী আমার ঘরবাড়ি, মন্দির, এমনকি বাঁচার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিল। এখন আমার ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব?”
কৃষক কাসেদ মল্লিক জানান, “মধুমতী আমার ভিটে মাটি ৯ বার ভেঙেছে। এবারও বুক কাঁপে—শেষটুকুও হয়তো রক্ষা হবে না।”
আরেক কৃষক রবিউল শেখ বলেন, “আমাদের ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। দ্রুত নদীশাসনের ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।”

টগরবন্দ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মুরাদ মোল্যা বলেন, “প্রতি বছরই নদীভাঙনে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়। যদি দ্রুত সুরক্ষাবাঁধ না দেওয়া হয়, পুরো টগরবন্দ ইউনিয়নই একদিন নদীতে মিলিয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা কাঙ্গাল বিশ্বাস বলেন, “রাতে ভাঙনের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। চারপাশে শুধু আতঙ্ক—মাটি যেন নিজেই চিৎকার করে ভেঙে পড়ছে।”
নদীপাড়ে ঘুরে দেখা যায়, ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো কোনো রকমে বেঁচে আছে। কেউ আত্মীয়ের বাড়ি আশ্রয় নিয়েছে, কেউবা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন সকালেই দেখা যায়, নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে আরও একটি নতুন জায়গা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “মোট ২ কিলোমিটার নদীপাড় ধ্বংসের মুখে। ঘরবাড়ি, রাস্তা, এমনকি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও হুমকির মুখে।
আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকারসহ এলাকা ঘুরে দেখেছি। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন— “কবে থামবে মধুমতীর এই করাল গ্রাস?
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত