সাহারুল হক সাচ্চু,উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অনেক মাঠে আগ্রহী কৃষকেরা সারি ( লাইন ) পদ্ধতিতে বোরো ( ইরি ) ধান চারা লাগাচ্ছেন। ধান চারা লাগানোর আগে সুতা টানিয়ে লাইন সোজা করা হচ্ছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এখন বছরের প্রধান আবাদের বোরো ধান আবাদ শুরু হয়েছে। কৃষকেরা জমিতে নানা জাতের বোরো ধান চারা লাগাচ্ছেন। অনেক এলাকায় মাঠে সারি পদ্ধতিতে বোরো ধান চারা লাগানো হচ্ছে।
উপজেলার সলঙ্গা , রামকৃষ্ণপুর , হাটি হাটিকুমরুল ইউনিয়ন এলাকার বিভিন্ন মাঠে এ পদ্ধতিতে কৃষকেরা জমিতে বোরো ধান চারা লাগাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সলঙ্গা ইউনিয়নের জগজীবনপুর মাঠে আগ্রহী কয়েকজন কৃষক এরই মধ্যে সারি পদ্ধতিতে জমিতে ধান চারা লাগিয়েছেন।
গতকাল শনিবার ( ৮ ফেব্রুয়ারী ) দুপুরে সরেজমিনে জগজীবনপুর মাঠে গিয়ে দেখা গেছে পারভীন খাতুনের ১৪ শতক জমিতে দুজন সারি পদ্ধতিতে ধান চারা লাগাচ্ছেন। জানা গেছে জমি মালিকের ইচ্ছে ও আগ্রহে তারা এ পদ্ধতিতে শুভলতা জাতের ধান চারা লাগাচ্ছেন।
প্রতিবেদককে কৃষক হাসমত আলী বলেন একই মাঠে প্রায় পোনে তিন বিঘা জমিতে তিনি এ পদ্ধতিতে ধান চারা লাগিয়েছেন। নিজস্ব বীজতলার কাটারী , শুভলতা ও ২৯ জাতের ধান চারা লাগিয়েছেন। তিনি বলেন গত কয়েক বছর ধরে এ পদ্ধতিতে ধান চারা লাগিয়ে আবাদ করে আসছেন।
তার কথায় এ পদ্ধতিতে চারা লাগানো হলে জমিতে নিড়ানী দিতে সুবিধা হয়। এছাড়া জমিতে সার ও কীটনাশক ঔষধ দিতে সুবিধা হয়। আরেক কৃষক সোহেল মিয়া বলেন একই জগজীবনপুর মাঠে এরই মধ্যে তিনি সারি পদ্ধতিতে চার বিঘা জমিতে শুভলতা ও ছক্কা জাতের ধান চারা লাগিয়েছেন।
আরো এক বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে ধান চারা লাগাবেন। তিনি বলেন এ পদ্ধতিতে ধান চারা জমিতে লাগাতে সময় বেশী লাগে বলে মজুরী বাবদ টাকা খরচ কিছুটা বেশী হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন সারি পদ্ধতিতে ধান চারা লাগানো হলে গাছে সহজেই আলো , বাতাস ঢুকতে পারে। এছাড়া ফলন বেশী হারে হয়। রোগ বালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হয়।
আগাছা পরিস্কারে নিড়ানী মেশিন সহজেই ব্যবহার এবং সার ও কীটনাশক ঔষধ স্প্রে করতে সুবিধা হয়। সব দিকেই উপকার মেলে। সব মিলে ফসলের উৎপাদন খরচ কম হয়। কৃষকেরা এতে বেশী লাভবান হন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত