এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরোধান ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পতনঊষার কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। ধান কাটার মৌসুমে এমন দুর্যোগে অনেক কৃষক সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কা করছেন।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে উপজেলার পতনঊষার কেওলার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সোমবার রাত থেকে দ্রুত হাওরের পানি বেড়ে প্রায় ৫শ’ হেক্টর বোরোধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
কেওলার হাওরের পাশাপাশি মুন্সিবাজার, শমশেরনগর ও আলীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও বোরোধান এবং সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে ৭০ হেক্টর জমির বোরোধান পানিতে তলিয়ে গেছে এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল।
এছাড়া সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হওয়ার সর্বশেষ তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হয়নি। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, “গত দুই দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে। আধাপাকা বোরোধান ঘরে তুলতে না পারায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করেছেন। এখন ধান ডুবে গেলে সেই ঋণ কীভাবে শোধ করবো, সেটাই বড় চিন্তা।”
তিনি আরও বলেন, “বোরোধানের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেতও পানির নিচে চলে যাচ্ছে। ঢলের পানি দীর্ঘ সময় থাকলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। হঠাৎ এত বৃষ্টিতে এত বড় ক্ষতি হবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি।”
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, “মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৭০ হেক্টর জমির বোরোধান সম্পূর্ণ এবং ৩৫০ হেক্টর আংশিকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে। সবজি ক্ষেতের বিষয়ে এখনও তথ্য সংগ্রহ চলছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।”
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, যদি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকে, তাহলে পুরো হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এখন দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত