এম এ ওয়াহিদ রুলু,মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ভাতিজার দা’য়ের আঘাতে বকুল বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত বকুল বেগম গ্রামের মৃত ইলিয়াছ মিয়ার স্ত্রী।
গুরুতর আহতরা হলেন—বকুল বেগমের মেয়ের জামাই অজুদ মিয়া (৩৫), সেলিম মিয়ার ছেলে সাঈদুল ইসলাম (১৮) ও আমিনুল ইসলাম (১৬)। হামলার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা ও মাদক সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে আশিক মিয়ার ছেলে হেলিম মিয়া (৪০) প্রথমে তার ভাইয়ের ঘরে ঢুকে ভাতিজা সাঈদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। প্রাণ বাঁচাতে তারা দৌড়ে প্রতিবেশী বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেয়।
সেখানে হেলিম মিয়া ঢুকে এলোপাতাড়ি দা ও ছুরি দিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় বকুল বেগম, তার মেয়ের জামাই অজুদ মিয়া, সাঈদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বকুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে অজুদ মিয়া ও আমিনুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেটে পাঠানো হয়। নিহতের মেয়ে পারভীন বেগম বলেন, “আমার মা ভাতিজাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হেলিম মিয়া তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য পপি বেগম জানান, হেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং এর আগেও একাধিকবার মানুষকে ছুরিকাঘাত করেছে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্তকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আগেও কয়েকটি মামলা রয়েছে।”
এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত