এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ২২ বছর বয়সী যুবক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (হৃদয়)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।
গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় রামচন্দ্রপুর ঘাটরবাজার গাউসুল আজম জামে মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা সালমান মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া ও আরমান মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৬ জুন বিকেল ৪টার দিকে হৃদয়কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সালমান মিয়া ফোন করে হৃদয়ের পরিবারকে জানান, হৃদয় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সালমান মিয়া সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

পরিবারের দাবি, হৃদয়ের শরীরে সড়ক দুর্ঘটনার মতো একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল না,কেবল মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের একটি চিহ্ন দেখা গেছে। এ কারণে তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে সন্দেহ করছেন।
নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, ৩দিন পরে এলাকাবাসী ও তার পরিবার অভিযুক্তদের পরিবারের লোক জনের কাছে বিষয়টি জানতে চান-
যে হৃদয় যদি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তাহলে তোমরা কেন তার জানা যায় এবং তার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে কেন শরিফুল হলেনা। তাদের বিরুদ্ধে উল্টো ধর্ষণের মামলা দিয়ে করার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া অভিযুক্তরা গ্রামবাসীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. আমির মিয়া, মো. রিপন মিয়া, মো. রুমন মিয়া, মো. মানিক মিয়া, নিহতের বাবা মো. ইউসুফ মিয়া এবং স্ত্রী মোছা. শারমিন বেগম।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নাম উল্লেখ করা ৩ ব্যক্তি এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশ ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন বক্তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের পরিবার জানায়, হৃদয়ের বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। মাত্র দুই মাস আগে তার বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে তিনি টমটম চালানোর পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, চাল বিক্রির কথা বলে সালমান মিয়া তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপরই তার মৃত্যুর খবর আসে।
অভিযুক্ত সালমান, উজ্জ্বল ও আরমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, "হৃদয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত