খাগড়াছড়ির গামারীঢালা এলাকায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে বাগানের গাছ কেটে নেওয়া, ভূমি দখলের চেষ্টা, অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন ১৬টি পরিবারের সদস্যরা। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগগুলো অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা দাবি তুলে ধরেছে।
রোববার (১০ মে ২০২৬) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করা পরিবারের নারী-পুরুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, তারা বংশ পরম্পরায় ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। ১৯৮০-৮২ সালে তৎকালীন সরকারের সময় বন্দোবস্তি ও কৈবলিয়ত সূত্রে জমি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসতঘর নির্মাণের পাশাপাশি বাগান-বাগিচা গড়ে তোলার কথাও জানান বক্তারা।
তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি বাগিস চাকমা ও বিনয় কৃষ্ণ চাকমার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি জোরপূর্বক জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে বাগানের গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ সময় অস্ত্র প্রদর্শন করে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা। পাশাপাশি জায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধনকারীরা জানান, এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা চুরির মামলা” প্রত্যাহার এবং ভূমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে গামারীঢালা এলাকার বাসিন্দা রুস্তম আলী, কুলসুম বেগম, দুলাল মিয়া ও মো. ডালিমসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন যুবক বাগিস চাকমার পক্ষে পোস্ট দিয়ে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো “মিথ্যা” বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি কাপ্তাই বাঁধে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আওতায় প্রাপ্ত জমি।
দাগ, খতিয়ান, হোল্ডিং নম্বর, নিয়মিত খাজনা পরিশোধ, ভূমি অফিসের স্কেচ ম্যাপ ও ভূমি কমিশনের চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত