মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত উপজেলা ও অব্যবস্থাপনায় সরাইল অসংখ্য খাল ও জলাধার হারিয়েছে তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ। এর প্রভাব পড়েছে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল। নদীর নাব্যতায়, কৃষিতে, মৎস্যসম্পদে এবং জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে এলাকার মানুষ মানববন্ধন করছেন। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দিচ্ছেন লিখিত অভিযোগ।
বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির ফলে ফিরছে প্রাণ। মুক্তি মিলেছে হাজারো পানি বন্দী মানুষের। সরাইল জুড়ে এর আনন্দ ভোগ করছে প্রতিটি মানুষ। তারা বলছে পর্যায়ক্রমে সরকারি সব খাল উদ্ধার করে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন কাজ করবেন।
এরই মধ্যে সরাইল উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মানুষের আস্তা করিয়েছে।অনেকেই নবাগত ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামে'র সম উপযোগী এবং জনগণের চাওয়াকে প্রাধান্য দেওয়ায় সকলেই উনার সাহসী ভূমিকা প্রশংসা করছেন।এদিকে খাল উদ্ধারে শুরু থেকে যার অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে সদর চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে বিএনপি জামাতসহ সরাইলের সকল রাজনীতি দল।জেগে উঠছে সরাইল উপজেলা প্রধান খাল খননে। দীর্ঘ বৎসরে মানুষের মানববন্ধন আর সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্তের মোতাবেক উদ্ধার হতে চলেছে সরাইলের প্রধান খাল।দেশব্যাপী নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাল পুনরুদ্ধার ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়। কারণ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোই মূলত পানিপ্রবাহের শাখা-উপশাখা হিসেবে কাজ করে। ফলে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কারণে দেশের নদীগুলোতে আবারও প্রাণ ফিরে আসবে।
আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই বিশাল কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরাইল উপজেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে সকল খাল উদ্ধারের মাঠে নেমেছেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন।
সরকারি হিসাবে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।জানাযায়,একই সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল সংস্কার ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট হয়ে গেলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়। এতে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যায়।
আবার বর্ষাকালে পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে যখন পানির চলাচল স্বাভাবিক হয়, তখন নদীর প্রবাহও সচল হয়। এতে নদীতে জমে থাকা পলি ধীরে ধীরে সরে যায় এবং নাব্যতা ফিরে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নদীর প্রাণ’ বলতে মূলত তার প্রবাহক্ষমতা, জীববৈচিত্র্য, নাব্যতা এবং পানি ধারণক্ষমতাকে বোঝায়। একটি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাধারগুলো সচল থাকলে নদীতে পানির আদান-প্রদান বাড়ে, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পায়, কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ে এবং জলাবদ্ধতা কমে।
ফলে নদী আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। সরাইল উপজেলার দুই দিকে তিতাস এবং মেঘনার সঙ্গে বড় বড় সংযুক্ত খাল রয়েছে। সরকারি দখল হওয়া খাল উদ্ধার করে মেঘনা এবং তিতাসের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারলেন সরাইল সুন্দর একটি মডেল উপজেলা হবে বলে বিশ্বাস করেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেছেন খাল উদ্ধার করে সরাইলের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে।
স্থানীয় তথ্য ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুযায়ী, এই উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০টিরও বেশি প্রধান প্রাকৃতিক ও সরকারি খাল রয়েছে।
সরাইল উপজেলায় জালের মতো ছড়িয়ে থাকা খালগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত ও উল্লেযোগ্য জাফরের খাল: বিভিন্ন ইউনিয়নে সেচ সুবিধা ও পানি নিষ্কাশনে এটি একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ খাল।
বোয়ালিয়া খাল: তিতাস ও মেঘনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই খালটি এলাকার অন্যতম প্রধান প্রবাহ।ঘাগড়াজোড় খাল: চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোড় এলাকার প্রধান খাল।
এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কিছু ছোট খাল রয়েছে। সরাইল উপজেলাবাসী সরকারি সকল খাল উদ্ধার চেয়ে বিভিন্ন এলাকায় মান ববন্ধন করছেন পানিবন্দি ভুক্তভোগী মানুষ।।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত