মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত শহর বেনাপোলে নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। মেয়র পদে গণমানুষের দাবির মুখে মাঠে নেমেছেন বেনাপোলের কৃতি সন্তান, দক্ষ ও সফল কৃতি ক্রীড়া সংগঠক, বিশিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী এবং যুবদল নেতা মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ। দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অলিতে-গলিতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের (যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে দিনরাত এক করে টানা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রতিদিনের ধারাবাহিকতায় ভোরে সূর্য ওঠার পর থেকেই ইমদাদুল হক ইমদাদ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের (কাগজপুকুর-কাগমারী) উত্তর কাগজপুকুর এলাকায় পৌঁছে যান। আজ সেখানে ছিল তাঁর প্রচারণার ৩য় দিন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডের পাশ দিয়ে চলে গেছে দেশের ব্যস্ততম বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক। ৩য় দিনের প্রচারণায় তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন, ভোটারদের সুবিধা-অসুবিধা ও সমস্যা-সংকট নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং ভোটারদের সাথে আবেগঘন পরিবেশে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। তিনি দখলবাজ,চাঁদাবাজ কিংবা সন্ত্রাসী কিনা? ভোটারদেরকে যাচাই-বাছাই করতে বললেন।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে ইমদাদের পৌঁছানোর পরপরই এক নজর দেখার জন্য শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে মা-বোন ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। বয়োবৃদ্ধরা তাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত রেখে স্নেহের দোয়া ও আশীর্বাদ দেন। একজন প্রবীণ ব্যক্তি জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন এবং অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তাকে জয়ী হবার ও মানুষের পাশে থাকার আশীর্বাদ করেন। তরুণ ও যুবারা কোলাকুলি করে তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থনের বার্তা জানাচ্ছেন। এ সময় তিনি শিশু-কিশোরদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন এবং দোয়া চান।
৪নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ভোটারদের মতামত সংগ্রহকালে একাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক জানান, "ইমদাদ ঘরের ছেলের মতো আমাদের দুখ-কষ্ট শুনতে এসে আমাদের বুকে টেনে নিয়েছে। আমরা এমন এক অভিভাবক চাই যে আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। তাঁর ব্যবহারে আমরা মুগ্ধ এবং আমরা তাঁকে এবার মেয়র পদে দেখতে চাই।"
গণসংযোগকালে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের উদ্দেশ্যে মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ তাঁর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারসমূহ তুলে ধরেন:
*নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুপরিকল্পিত নর্দমা ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা।
*ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান, পর্যাপ্ত সড়ক বাতির ব্যবস্থা ও সুপেয় পানির সংকট নিরসন।
*গত ৩ অক্টোবর বেনাপোল পৌর বিয়েবাড়ীতে কৃতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মাননা প্রদান করে তিনি পৌরজুড়ে প্রশংসায় ভেসেছেন। নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে শিক্ষার মানোন্নয়ন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং খেলাধুলার আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
*দেশের প্রধান স্থলবন্দর সংলগ্ন বেনাপোল পৌরসভার সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সর্বস্তরের পথচারীদের জানমালের নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ গড়া।
গত ৩ মাসের টানা গণসংযোগে দেখা গেছে, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই ইমদাদুল হক ইমদাদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অভাবনীয় স্তরে পৌঁছেছে।
*তিনি কেবল রাজনীতি কিংবা কোনো নির্দিষ্ট দলের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। একজন ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী হিসেবে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে তিনি সহজেই আস্থাভাজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
* সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন ইমদাদ কথা নয়, কাজের মানুষ। শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে তাঁর বিগত দিনের অবদানের কারণে ভোটাররা বিশ্বাস স্থাপন করেছেন যে, মেয়র পদে নির্বাচিত হলে তিনি দেওয়া সমস্ত কথা ও প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
* ৯টি ওয়ার্ডেরই নারী ও প্রবীণ ভোটারদের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে।
এলাকার সুশীল সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ ভোটার একবাক্যে স্বীকার করছেন, সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে ইমদাদুল হক ইমদাদকে তারা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে পৌরসভার নগরপিতা হিসেবে জয়যুক্ত করতে শতভাগ প্রস্তুত। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৩য় দিনের এ উত্তাল প্রচারণাই প্রমাণ করে, বেনাপোল পৌরসভার সাধারণ ভোটারদের হৃদয় জয় করে গণমানুষের নেতায় পরিণত হয়েছেন মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ।
কাগজপুকুর-কাগমারী গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারদের সাথে মতবিনিময়ে যুবদল নেতা ও মেয়র পদপ্রার্থী মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন, কাগজপুকুরের এই গলিগুলোতে আপনাদের দ্বারে দ্বারে এসে আপনাদের যে অপরিসীম ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তাতে আমি সত্যি বাকরুদ্ধ। আপনাদের এই স্নেহের আঁচল, আপনাদের এই প্রবীণ হাতের দোয়া—আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি আপনাদেরই ঘরের সন্তান, আপনাদেরই সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। গত ৩ মাস ধরে আমি বেনাপোলের প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি কোনো দল বা ক্ষমতার মোহে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি।
আমি এসেছি আপনাদের নাগরিক অধিকার টুকু ফিরিয়ে দিতে, অবহেলিত এই পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে। কাগজপুকুর-কাগমারী এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ সমস্যা আর সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা আমি খুব ভালোভাবেই জানি। আপনাদের এই অবহেলিত জনপদকে উন্নত করার পবিত্র দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধে নিতে চাই। আপনারা অতীতে অনেককে দেখেছেন, এবার আপনাদের এই সন্তানকে, আপনাদের এই ভাইকে একটু সুযোগ দিয়ে দেখুন। আমি আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা এক ফোঁটাও ক্ষুণ্ন হতে দেবো না। আপনাদের সুখে আমি যেমন পাশে ছিলাম, আগামী দিনেও আপনাদের বিপদে সবার আগে মাঠে থাকব।
আগামী নির্বাচনে আপনারা আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আপনাদের এই ভালোবাসার ঋণ আমি উন্নয়ন দিয়ে শোধ করতে পারি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত