জাহিরুল ইসলাম রনি,ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে পুলিশ। দুটি মামলাতেই সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের রাতের আঁধারে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া এবং নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই মামলায় মোট ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সদর থানায় মামলা দুটি করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন এবং অপর মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। দুটি মামলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা হয়েছে।
প্রথম মামলাটি করেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোলেমান গনি। এজাহারে বলা হয়, গত ৩১ আগস্ট ভোর চারটার দিকে সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়ায় গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা দিকবেদিক পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। সেখানে থাকা দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম-ঠিকানা জানতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রয়েল বড়ুয়া, নিউমুন, এস এম সালমান, মাহাবুব, মো. ওসমান গনি, সিএম সাব্বির হাসান হৃদয়, আরাফাত হোসেন ওরফে রাব্বি, আবিদ হোসেন হৃদয় ওরফে গুড্ডু, বিধান রায়, মো. শাওন সাব্বির, স্বাধন, রাজু ওরফে ছোট রাজু, বড় রাজু, মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. খায়রুল ইসলাম ও মো. মনোয়ার হোসেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট ও বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অখন্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে একই দিনের রাত নয়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার আর্ট গ্যালারি ও সিঙ্গার শোরুমের সামনে আঞ্চলিক সড়কে একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে দ্বিতীয় মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলাটি করেন সদর থানার এসআই মনিরুজ্জামান। এজাহারে বলা হয়, ৩১ আগস্ট রাত নয়টার দিকে ওই এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং তাঁদের অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন—এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ৯টা ১০ মিনিটে পুলিশ সেখানে পৌঁছালে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জনের নাম জানা যায়। তাঁরা হলেন রয়েল বড়ুয়া, নিউমুন, এস এম সালমান, মাহাবুব, মো. ওসমান গনি, সিএম সাব্বির হাসান হৃদয়, আরাফাত হোসেন ওরফে রাব্বি, আবিদ হোসেন হৃদয় ওরফে গুড্ডু, বিধান রায়, মো. শাওন সাব্বির, বাধন, প্রীতম, স্বাধন, মো. রফিকুল ইসলাম রফিক ও অন্তর শেখ।
দ্বিতীয় মামলার এজাহারেও আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত