ইমরান হাসান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ও কাঁঠাল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এখনো একটি বাঁশের সাঁকো। উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পাগারিয়া নদীর উপর নির্মিত এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন। দুর্ঘটনা ঘটলেও বছরের পর বছর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি।
রামপুর ইউনিয়নের কাকচর উত্তরপাড়া গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত পাগারিয়া নদীর এই বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করেন কাকচর, দরিল্লা, কাঁঠাল তেতুলিয়াপাড়া, বালিয়ারপাড় ও কানিহারী ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার মানুষ। স্থানীয়ভাবে ‘জাহেদের ঘাট’ নামে পরিচিত এই স্থানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী পার হয়ে পাশের ইউনিয়নের স্কুল–কলেজে যাতায়াত করে।
প্রায় পাঁচ বছর আগে একই গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী দুখুনি এই সাঁকো থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে মারা যায়। সে সময়ের কথা স্মরণ করে গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আমিরুল হক বলেন,
“ইস্কুল যাইতে গিয়া সাওক্কা থেইক্যা পইড়া মাইয়াটা মরল। এর পর পরিবারডাও গেরাম ছারলো। মেলা পোলাপান ইস্কুল যাইবার গিয়া পইড়া হাত-পা ভাঙ্গে। নেতা-ফেতাগরে কতো কইলাম, একটা বিরিজ কইরা দেন, কিন্তু কেউ দিল না। মানুষ মরলেও বিরিজ করার খবর নাই।”
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফজাল হোসেনও গত বছর এই সাঁকো থেকে পড়ে হাত ভেঙেছেন। আফজালের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, “খালি আমার ছেলে না, প্রায়ই পোলাপান পড়ে গিয়া হাত-পা ভাঙে। একটা সেতু অইলে আর এমন কষ্ট করতে হইতো না।”
স্থানীয়রা জানান, এই সাঁকো দিয়ে রামপুর, কাঁঠাল ও কানিহারী ইউনিয়নের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী—সবাই ঝুঁকি নিয়ে পার হন। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
কলেজ শিক্ষার্থী সারওয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাছে হওয়ায় আমরা প্রতিদিন এই সাঁকো পার হই। মাঝেমধ্যে সাঁকো ভেঙে যায়, কিন্তু বিকল্প কোনো পথ নাই।”
কাকচর গ্রামের আজিজুল হক বলেন,“গ্রামের চারটি ওয়ার্ডসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। বয়স্ক আর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বহুবার অভিযোগ করেও কাজ হয় নাই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলিম উদ্দিন বলেন,“এই সাঁকো দিয়ে কয়েক গ্রামের শতশত মানুষ চলাচল করে। এখানে একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু খুবই জরুরি। অতীতে সাঁকো থেকে পড়ে এক শিশু মারা গেছে, আহতও হয়েছে অনেকে।”
রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আপেল মাহমুদ বলেন, “বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে জানিয়েছি। তারা লোক পাঠিয়ে মাপজোখও করেছেন। কিন্তু কেন এখনো কাজ শুরু হয়নি জানি না। দ্রুতই আবারও কথা বলব।”
ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ বলেন, “নদীর একপাশে রাস্তা থাকলেও অপর পাশে নেই। চেয়ারম্যানকে রাস্তা নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে। রাস্তা হলে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত