ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে নজরুল ইসলাম (৪৭) নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন রোগীর স্বজনরা।
রোববার (১৭ মে) রাত প্রায় ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ইমতিয়াজ মাহামুদ পাঠানকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে ত্রিশাল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং স্বজনদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহাবুবুর রহমান হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিলে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার রাত সাড়ে ১০ টায় মিনিটে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে নজরুল ইসলামকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক তাকে অক্সিজেন প্রদান করেন। কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা চিকিৎসককে নিচতলা থেকে তিনতলার ওয়ার্ডে ডেকে আনেন।
তাদের দাবি, চিকিৎসক একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগী খিঁচুনি দিয়ে মারা যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে স্বজনদের কান্না ও প্রতিবাদে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণেই নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মৃত নজরুল ইসলাম ত্রিশাল উপজেলার পাঁচপাড়া (ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন) এলাকার বাসিন্দা এবং ‘বিশ্বের মুখপত্র’ পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল রহিমের ছোট ভাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ইমতিয়াজ মাহামুদ পাঠান বলেন, “আমার পক্ষ থেকে চিকিৎসায় কোনো গ্যাপ ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাই দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারী জানান, রাত ১০টার পর রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। শ্বাসকষ্ট থাকায় অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং পরে ভর্তি নেওয়া হয়।
চিকিৎসার অংশ হিসেবে ওমিপ্রাজল ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পর রোগীর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা আপাতত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত