মোঃ রাকিবুজ্জামান (দশমিনা পটুয়াখালী): 'আমাগো কষ্ট তারা বুঝবে না। হেরা থাহে এসি রুমো। উন্নয়ন তো দূরের কতা, ভোডের পরে নেতারা আর খোঁজ খবরই নেয় না।' এভাবেই চাপা ক্ষোভ, হতাশা আর কষ্টের কথা বলছিলেন, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাস পাড়া গ্রামের কৃষক মজিদ হাওলাদার সহ একাধিক স্থানীয়রা।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী বাজার-বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের। জনপ্রতিনিধিরা বারবার কথা দিয়েও কেউ কথা রাখেনি বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা এই বেহাল অবস্থা থেকে মুক্তি চান। তাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটি পাকা করে দেয়।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাস পাড়া এলাকা একটি কৃষিনির্ভর জনপদ। এখানে ধান, কলা, কাঠাল, লেবুসহ নানা সবজির বাণিজ্যিক চাষাবাদ হয়। কিন্তু সড়কটি কাঁচা হওয়ায় কৃষরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা এলেই কৃষকদের লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হয়।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী বাজার থেকে বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি সড়কের পাকা সড়ক পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে ৩২ নম্বর গছানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. নাসরিন বেগম জানান, আমার বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা বর্ষার মৌসুমে খুব কষ্ট করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে। আমি সরকারের কাছে জোড় দাবী জানাই ওই কাঁচা সড়কটি পাকা করনের জন্য।
এবিষয়ে গছানী বাজারে সবজির পাইকার খালেক রাঢ়ি বলেন, রাস্তা খারাপ থাকায় এখানে কোনো যানবাহন আসতে চায় না। ফলে আমাদের সবজি অনেক সময় ক্ষেতেই নষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন, সড়ক দিয়ে একজন মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নিতে চাইলে মাথায় করে নিতে হয়। এর কোনো বিকল্প নেই।
এবিষয়ে গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. খবিরুল বশার রিন্টু ভোরের ডাককে জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রয়ে গেছে। বর্ষাকালে যানবাহন তো দূরের কথা হেঁটে যাবার উপায় নেই। বৃষ্টি হলে আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসতে পারে না। বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করে প্রায় চার গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য শহরে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে স্থানীয় কৃষক শংকর চন্দ্র শীল, জামাল মৃধা, ইউনুছ তালুকদার ও আলাউদ্দিন হাওলাদার জানান, এই রাস্তাটি কাঁচা থাকায় আমাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছি না। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে এই রাস্তায় গাড়ি আসে না। রাস্তা খারাপ থাকায় পাইকাররাও মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে আমরা সঠিক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
রাস্তার এমন বেহাল অবস্থায় স্থানীয় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এই কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কটি পাকা করণের দাবি জানান স্থানীয়রা।
জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, এই কাঁচা সড়কের আইডিসহ বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আমাকে পাঠালে আমি যথাসময়ে তা প্রস্তাব দিয়ে রাখবো।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত