আবুল হাসনাত তুহিন ফেনী,ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আতাতুর্ক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত নানা সমস্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহল।
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো মানসম্মত নামফলকসংবলিত স্থায়ী প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়নি। বিদ্যালয়ের চারপাশে পূর্ণাঙ্গ সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে অপরিষ্কার ও অকার্যকর ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে মশার প্রজননসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের পাশের একটি মিষ্টির দোকানের কিচেন ও জেনারেটর একজাস্ট ফ্যান থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গরম বাতাস বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছে।
এতে শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং পাঠদানেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
এছাড়া বিদ্যালয়ে সন্তানদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের বসার জন্য কোনো নির্ধারিত স্থান নেই। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁদের দীর্ঘ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বা যত্রতত্র বসে থাকতে হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথের অদূরেই প্রকাশ্যে সিগারেট বিক্রি করতে দেখা যায়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা বিষয়টি দ্রুত বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এছাড়াও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খেলার মাঠের অভাব,বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, মাঠের সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, একটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাই গেট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ড্রেন সংস্কার, ময়লা অপসারণ, ধোঁয়ার উৎস অপসারণ, অভিভাবকদের বসার স্থান নির্মাণ এবং বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় সিগারেট বিক্রি বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, আতাতুর্ক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ও গেট নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
এছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন মার্কেটের জেনারেটর, একজাস্ট ফ্যান, অভিভাবকদের বসার স্থানসহ অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান ম্যানেজিং কমিটিও ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে। বিদ্যালয়টি যেহেতু একটি মডেল স্কুল, তাই এর মডেল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের গেট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।
চলতি অর্থবছরেই এ খাতে বরাদ্দ পাওয়ার আশা করছি। এছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন মার্কেটের জেনারেটরের এক্সহস্ট ফ্যান, ড্রেনসহ অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির আবেদন পেয়েছি।
ইতোমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে জেনারেটরের এক্সহস্ট ফ্যান অন্যত্র স্থানান্তর করা যায়। অভিভাবকদের বসার বিষয়টিও আমি নিজে দেখেছি।
ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের জন্য একটি উপযুক্ত বসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। বাকি সমস্যাগুলোরও দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আতাতুর্ক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আবারও একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত