একই বিদ্যালয়ের পৃথক শ্রেণিতে পড়–য়া দুই শিক্ষার্থী প্রেমে জড়ায়। আবার দেড় বছরের মধেই তাদের ব্রেকআপ হয়। এরপর থেকে মোবাইলে ম্যাসেজ ও নানা ভাবে উত্যক্ত করার পাশাপাশি হটাৎ একদিন সুযোগ বুঝে মেয়েটিকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা করে সেই প্রেমিক।
এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় মামলা করে ভুক্তভোগির বড় বোন। পুলিশ আদালতে চার্জসিট দাখিলের পর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে দেয়া হয় ডাকাতি মামলা। ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে।
জানা যায়, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের চকরামপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর কলেজ পড়–য়া ছেলে জিয়াউল ইসলাম তাছিন রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জুনিয়র শ্রেণিতে পড়া এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেম করে। তারা দু’জন প্রতিবেশী হলেও মাস তিনেক আগে তাদের প্রেমের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সম্পর্ক ভেঙে গেলেও মেয়েটির পিছু ছাড়ে না তাছিন। মোবাইলে আজেবাজে ম্যাসেজ পাঠিয়ে বিরক্ত ও কু-প্রস্তাবসহ নানা ভাবে উত্তক্ত্য করতে থাকে সে। থাকে সুযোগের অপেক্ষায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শেষে, রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বড় বোনের ভাড়া বাসায় যান ওই ছাত্রী।
পিছু নেয় তার সাবেক প্রেমিক তাছিন। ওই ফ্ল্যাট বাসার ভাড়াটিয়াহীন একটি ইউনিটের খালিরুমে মেয়েটিকে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয় তাছিন এবং সে মেয়েটিকে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি ধর্ষণের চেষ্টা করে।
মেয়েটির আর্তচিৎকারে বাসার মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা ছুটে আসেন। এ সময় অসমাপ্ত ওই ইউনিটের বাথরুমের ফাঁকা দিয়ে পালিয়ে যায় তাছিন। পরে ভুক্তভোগি ছাত্রীর পরিবারের লোকজন তাছিনের পরিবারের কাছে অভিযোগ করলে, বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাদেরকে তিরস্কার করেন।
তাছিনের বাবা ইটালী প্রবাসী হওয়ায় এলাকায় প্রভাববিস্তার করে আছে, তাই নির্যাতিত মেয়ে শালিসকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ধমকিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয় তাদেরকে। পরে সালিশ-দরবারের মাধ্যমে স্থানীয় গন্যমান্যদের কাছে বিচার প্রার্থণা করে ভুক্তভোগির পরিবার।
তাতে কোন লাভ না হওয়ায় ন্যায় বিচারের আশায় ৯ সেপ্টেম্বর ত্রিশাল থানায় ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় মামলা করে ভুক্তভোগির বড় বোন। ত্রিশাল থানা পুলিশের তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মেলে। তদন্ত শেষে গত ১৬ অক্টোবর আদালতে চার্জসিট দাখিল করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মেলে। আদালতে চার্জসিটও দাখিল করা হয়েছে। তবে তাছিনের মা তাছলিমা খাতুনের দাবি, যেহেতু তারা একে অপরের প্রতিবেশী তাই কথাবার্তা বলতেই পারে, কিন্তু খারাপ কিছু করেনি।
এদিকে চাপপ্রয়োগ করেও ওই ঘটনার মামলা প্রত্যাহার না করাতে পেরে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গত ১৫ নভেম্বর আদালতে ডাকাতি মামলা করেন তাছিনের পরিবার। মামলায় আসামি করা হয় ভুক্তভোগি ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজনকে। সে মামলায় ডাকাতির সময় দেখানো হয় সন্ধ্যা ৭ টায়।
সরেজমিন স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত ছয় মাসের মধ্যে এ এলাকায় ডাকাতি তো দুরের কথা, কোন চুরির ঘটনাও ঘটেনি।
নুরুল হক নামে এক ব্যক্তি জানান, ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি, মূলত এটা জিদ্দা-জিদ্দি মামলা। মেয়ে নিয়ে যে, মামলা হয়েছে, তার বিপরীতে ডাকাতি মামলা করেছে।
এবিষয়ে জানতে গেলে, ডাকাতি মামলার ২নং সাক্ষী রেনুয়ারা বেগমের মুখ ফসলে বেড়িয়ে যায়, মেয়ের পক্ষ দুইটা মামলা করছে, আমাদের তো একটা করতেই হয়।
১নং স্বাক্ষী খাদিজা খাতুনের ভাষ্য, রাস্তার পাশে রড, সিমেন্ট রেখে নতুন বাসার কাজ চলছে, মাঝেমধ্যে চুরি হচ্ছে। কারা চুরি করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা আমাদের শত্রু তারাই তো করছে। ডাকাতি মামলা কেন করলেন সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
ধর্ষণ মামলার বাদী আফরিনা আক্তার বলেন, চাপপ্রয়োগ করেও মামলা প্রত্যাহার না করাতে পেরে আমাদেরকে ঘায়েল করতে, আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ডাকাতি মামলা করেছে তাছিনের পরিবার। আমার বোনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঠিক বিচারের প্রত্যাশা করছি আমরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত