বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এক নির্ভীক, ত্যাগী ও আপোষহীন নাম। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি রাজপথে লড়েছেন দলের পক্ষে, আদর্শের পক্ষে, মানুষের অধিকারের পক্ষে।
রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, এক অদম্য প্রতিশ্রুতির নাম। “বিএনপি-ই আমার জীবন, বিএনপি-ই আমার মরণ”এই উচ্চারণ যেন তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল থেকে রাজনীতির সূচনা। ১৯৮৭ সালে আলাউল হলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তরুণ বয়সেই তাঁর সংগঠনী দক্ষতা ও দৃঢ় নেতৃত্ব তৎকালীন ছাত্ররাজনীতিতে নতুন গতি আনে।
রাজনীতির এই মাটির মানুষ পরবর্তীতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় পদেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দলের দুঃসময়ে তিনি রাজপথে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা নেতাকর্মীদের কাছে তাঁকে বানিয়েছে ‘দুর্দিনের হিলালী ভাই’।
২০০৬ সালে তিনি প্রথম ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পান। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের ভেতরের বিভাজন সত্ত্বেও তিনি ঢাকা বিভাগের রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন।
গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে ৫৬টি মিথ্যা ও গায়েবি মামলা। হামলা, হয়রানি, জেলজুলুম সবই সহ্য করেছেন অবিচল মনোবলে। এমনকি প্রয়াত বৃদ্ধ পিতাকে নিয়ে জেলে যেতে হয়েছে তাঁকে, কিন্তু কখনো ভেঙে পড়েননি। তাঁর বাড়িতে একাধিকবার হামলা হলেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি একদিনের জন্যও।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হলে বেগম খালেদা জিয়া নিজ উদ্যোগে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। সেই সময় থেকেই দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা গভীর থেকে গভীরতর হয়।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে কেন্দুয়া-আটপাড়ার রাস্তাঘাটে যখন শোনা যায়, “দুর্দিনের হিলালী ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই”, “কেন্দুয়া-আটপাড়া মাটি, হিলালী ভাইয়ের ঘাঁটি” তখন স্পষ্ট হয়ে যায়, তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা কতটা গভীর।
ড. হিলালী শুধু রাজনীতিক নন, তিনি একজন মেধাবী শিক্ষানুরাগীও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে তার অবদান রয়েছে।
নানান ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে তিনি সম্প্রতি নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক ব্যস্ততা। কর্মীদের সমস্যার সমাধান, সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ, দলীয় কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও সামাজিক দেনদরবার।
দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফেরেন গভীর রাতে, তবুও মন ভরা তৃপ্তি। কারণ তিনি দলের জন্য বেঁচে আছেন, দলের জন্য লড়ছেন।
নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন,“আমি রাজনীতি করেছি দেশের জন্য, মানুষের জন্য, দলের জন্য। মামলা, হামলা, কারাবাস এসব আমার পথ রোধ করতে পারেনি। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনড়, আর থাকব শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
নেত্রকোণার রাজনৈতিক ইতিহাসে ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এক সাহসী, ত্যাগী ও নীতিবান নেতার প্রতীক। সব ষড়যন্ত্র, বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি রাজপথে অটল একজন সত্যিকারের দুর্দিনের সৈনিক হিসেবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত