জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাসে ২০২৫ সাল যেন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। পঁচিশ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব চাওয়া যেন একে একে পূরণ হচ্ছে। যা উনিশ বছর বয়সেও ছিল কল্পনার বাইরে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বিদায় নেয় সাবেক উপাচার্য সাদেকা হালিমের প্রশাসন। এরপর থেকেই শুরু হয় জবির নবজাগরণ। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধীন থেকে উপাচার্য নিয়োগের প্রথা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বদলে যেতে বাধ্য হয়। প্রথমবারের মতো জবির নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মোঃ রেজাউল করিম।
ড. রেজাউল করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জবি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়াও দখলমুক্ত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, বাণী ভবন এবং ড. হাবিবুর রহমান হল।
শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সমস্যা সমাধান ছিল প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশাসন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। প্রাথমিকভাবে এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং প্রশাসনের প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর হাতে এই প্রকল্পের দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রজ্ঞাপন জারি করে। গত ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এই প্রকল্পের কাজের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং একটি প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেয়।
একজন শিক্ষার্থী জানান, “স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে আমরা জবিয়ানরা সবসময় বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর আমরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে শুরু করি। বর্তমান প্রশাসন আমাদের অধিকারের বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এই প্রশাসনের অবদান জবির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”জবি উপাচার্য ড. রেজাউল করিম বলেন, “আমাদের সাফল্যের জন্য প্রথমেই মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিগত সরকার আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অবদানও অনস্বীকার্য।
সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে পারি।”
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত