সুকুমার ঋষি পোরশা নওগাঁঃ নওগাঁর পোরশা জমে উঠেছে আমের বাজার। উপজেলার নোচনাহার বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে এখন দিন-রাত চলছে আম কেনাবেচা। তবে উপজেলার নোচনাহার বাজার এখন এলাকার অন্যতম বৃহত্তর আম বাজারে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় আমচাষি, বাগান মালিক ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা আম ব্যবসায়ীদের পদচারনায় মুখরিত থাকছে পুরো বাজার।
এই বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা আমের আড়ৎ গুলিতে ১ হাজার ৪৩ কৌটি ৭০ লক্ষ টাকার আম বিক্রি সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও উপজেলার সরাইগাছি মোড়, কালাইবাড়ি বাজার, পোরশা আড়তের মোড়, গাঙ্গুরিয়া বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে চলছে আম কেনাবেচা। চলতি মৌসুমে এই আম বাজার গুলিতে বাহারি জাতের আম কেনাবেচা হচ্ছে।
আর আম বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আম্রপালী ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-৪, ল্যাংড়া ও খিরশাপাত জাতের আম।
এছাড়াও কিছু সু-স্বাদু জাতের আমও পাওয়া যাচ্ছে। আমচাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের ফলন কিছুটা ভালো হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু কম।
তবে এবারে আমের আকার বেশ আকর্ষণীয় হলেও রং কিছূটা খারাপ হয়েছে। এটা আবহাওয়া জনিত কারনে হতে পারে। তবে আমে তেমন সমস্যা নেই বলছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা।
সরেজমিনে নোচনাহার আম বাজার সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন শতশত অটোভ্যান ও ট্রলিতে করে চাষিরা তাদের বাগানের আম বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন।
আর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখান থেকে আম সংগ্রহ করছেন। তবে দাম নিয়ে চাষিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আমচাষি জানান, মৌসুমের শুরুতে আমের দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে আমের মান অনুযায়ী দাম নির্ধারন করা হচ্ছে। এছাড়াও ওজনে দিতে হচ্ছে প্রায় ৪৮ কেজি। মনে ৮ কেজি বেশী দিতে হচ্ছে।
একারনে তাদের খুব একটা লাভ হচ্ছেনা। এবার আম্রপালী আমের দাম প্রকার ভেদে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান।
তবে কিছুদিন পরে এ আমের দাম বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন। অন্যদিকে পাইকারি ক্রেতারা বলছেন, নোচনাহার বাজারের আমের মান ভালো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ায় তারা প্রতি বছরই এখান থেকে আম ক্রয় করতে আসেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভাল বলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ জানান, নোচনাহার আমবাজার ও উপজেলার অন্যান্য আম বাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শতশত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। গাছ থেকে আম নামানো, প্যাকেজিং, ক্যারেট তৈরি এবং পরিবহনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা।
এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং যানজট এড়াতে ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ উপজেলায় ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এবছর আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ১০০ মেট্রিকটন। এর মধ্যে প্রায় ১ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানী করা হবে বলে তিনি জানান।
যদি আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকে এবং বাজার দর এমন থাকে, তবে চলতি মৌসুমে নোচনাহার বাজার ও বিভিন্ন আড়ৎ থেকে যার বাজার মুল্য ১ হাজার ৪৩ কৌটি ৭০ লক্ষ টাকার আম বাণিজ্য হবে বলে তিনি আশা করছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত