উৎসবমুখর ও গণতান্ত্রিক আবহে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু এই নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। নির্বাচনোত্তর সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠিত হয়।
একই সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে খাগড়াছড়ি আসন থেকে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী জনাব আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন, আস্থা ও ভালোবাসায় এই বিজয় শুধু সংখ্যাগত নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে গভীর অর্থবহ এক রাজনৈতিক বার্তা।
এই বিজয়কে কেবল একটি সংসদীয় আসনের সাফল্য হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য খাটো করা হবে। এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ, ধৈর্য ও অবিচল রাজনৈতিক অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের জনগণ ও দলীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে—এই বিজয়ের মধ্য দিয়েই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রত্যাশা তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ না হলেও আশার প্রদীপ এখনো প্রজ্বলিত, প্রত্যাশার প্রহর অব্যাহত।
দলীয় অঙ্গনে এখনো দৃঢ় আস্থা রয়েছে—যথাসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব ওয়াদুদ ভূইয়ার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। খাগড়াছড়ির জনগণ ও নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা একদিন বাস্তব রূপ পাবে—এই বিশ্বাসই তাদের প্রেরণার উৎস।
গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের জন্য সময়টি ছিল কঠিন পরীক্ষার। মামলা, রাজনৈতিক চাপ, সাংগঠনিক সংকট ও সীমিত পরিসরের মধ্যেও বিএনপি টিকে থেকেছে দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ এক অধ্যায়ে। এই প্রতিকূল সময়েও খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন জনাব ওয়াদুদ ভূইয়া। দক্ষ নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি দলকে সংগঠিত, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন।
অনেক এলাকায় যখন দলীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তখন খাগড়াছড়িতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বয় সভা, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সংযোগের মাধ্যমে শক্তিশালী ও কার্যকর দলীয় কাঠামো ধরে রাখার সক্ষমতা ছিল তাঁর নেতৃত্বের বড় শক্তি।
প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখা সহজ নয়। তবুও সামাজিক, মানবিক ও নাগরিক নানা ইস্যুতে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক অটুট রেখেছেন। তাঁর রাজনীতি ভোটকেন্দ্রিক নয়; বরং মানুষের জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এক দায়বদ্ধ অঙ্গীকার।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও একাধিকবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁকে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত করেছে। আইন প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রদান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রজ্ঞা ও সক্ষমতার পরিচয় রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা বহুমাত্রিক ও সংবেদনশীল। ভূমি সমস্যা, জাতিগত বৈচিত্র্য, উন্নয়নের ভারসাম্য ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি সম্মান—এসব বিষয়ে গভীর উপলব্ধি ছাড়া কার্যকর প্রতিনিধিত্ব সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে এই অঞ্চলের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সক্ষমতা দিয়েছে। অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমন্বয় ক্ষমতার উজ্জ্বল উদাহরণ।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সামাজিক ঐক্যের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান সুস্পষ্ট ও ইতিবাচক। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নয়, বরং জাতীয় সংহতি ও উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য—এই দর্শনই তাঁর রাজনৈতিক চর্চার ভিত্তি।
নিশ্চয়ই, মন্ত্রিসভা গঠন একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিবেচনার বিষয়। তবে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনআস্থা ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় খাগড়াছড়ির একজন যোগ্য প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা বহন করবে। এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং একটি অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের প্রতিফলন।
আজও প্রত্যাশা একটাই—খাগড়াছড়ির কণ্ঠস্বর যেন জাতীয় মন্ত্রিসভায় যথাযথ স্থান পায়। জনাব ওয়াদুদ ভূইয়ার অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব জাতীয় পর্যায়ে নতুন মাত্রা যোগ করুক—এটাই খাগড়াছড়ির মানুষের আন্তরিক প্রত্যাশা, এটাই সময়ের ন্যায্য দাবি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত