দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম ক্যায়াংঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক প্রসবসেবা চালু থাকলেও বিদ্যুৎ, জনবল, ওষুধ ও জরুরি পরিবহনের সংকটে রয়েছে কেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ চলে গেলে কিংবা লো ভোল্টেজ হলে কখনো মোবাইলের আলোয় প্রসবসেবা দিতে হয়।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে এখানে ৭২টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারিতে ৯, মার্চে ১১, এপ্রিলে ১২, মে মাসে ৬, জুনে ৮, জুলাইয়ে ৯ এবং আগস্টে ৭টি প্রসব হয়েছে। গত ৩০ দিনে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে হয়েছে ছয়টি প্রসব।
মিডওয়াইফ বৈশাখী চাকমা জানান, অধিকাংশ প্রসব রাতেই হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প জরুরি আলো না থাকায় মোবাইলের আলো ব্যবহার করতে হয়।
কেন্দ্রটিতে আগে দুজন মিডওয়াইফ থাকলেও বর্তমানে একজন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছুটিতে গেলে বিকল্প হিসেবে সদর হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়।
কেন্দ্রটিতে গত এক বছরে দুজন জটিল রোগীকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আরেকজন প্রসূতিকে জেলা সদরের বেসরকারি হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিতে হয়েছে। মাইসছড়ি বাজার থেকে কেন্দ্রটির দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার হলেও দুর্গম ও কাঁচা সড়কের কারণে জরুরি রোগী স্থানান্তরে ২–৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
কেন্দ্রটির নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নেই। জরুরি পরিবহনের খরচ রোগীর পরিবারকে বহন করতে হয়। প্রয়োজনের সময় দ্রুত যানবাহন না পাওয়ার সমস্যাও রয়েছে।
মিডওয়াইফ বৈশাখী চাকমা বলেন, নিয়মিত মেডিসিন সাপোর্ট প্রয়োজন। কাছাকাছি ওষুধের দোকান না থাকায় জরুরি সময়ে ওষুধ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। দরিদ্র অনেক রোগীর ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য প্রান্ত চাকমা বলেন, ডেলিভারি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি। জাবারাং কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকেও এ ধরনের সহায়তা বাড়ানো যেতে পারে।
পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ত্রিশুল চাকমা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। তবে পাহাড়ি যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সব এলাকায় নিয়মিত পৌঁছানো চ্যালেঞ্জ।
ক্যায়াংঘাট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিত্রে একদিকে দুর্গম এলাকায় ২৪ ঘণ্টা প্রসবসেবা ও ৮ মাসে ৭২টি প্রসবের সাফল্য, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জরুরি আলোর ঘাটতি, সীমিত জনবল, ওষুধ সংকট এবং রেফারেল পরিবহনের দুর্বলতা—দুই বাস্তবতাই উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত