মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বহিরাগত চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সুমন হোসেন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট দালালিসহ বন্দরের অভ্যন্তরে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সুমন নামের ঐ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট জমা দিলেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে এবং ব্যবসায়ী মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার(২০ জানুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকায় অবস্থিত বানিজ্যিক ভবন "রহমান চেম্বার" এর ষষ্ট ফ্লোরে "হোটেল সানরুফ" এ "বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার এন্ড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন" কর্তৃক আয়োজিত
এক সংবাদ সন্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়। "সংবাদ সন্মেলন" এ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া।
লিখিত বক্তব্যে জিয়া বলেন, বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাপোল গ্রামের বাসিন্দা সুমন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পাসপোর্ট দালালি, ল্যাগেজ পার এবং চাঁদাবাজি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনো অনুমতি ছাড়াই বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের দ্রুত ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২-৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতেন।
শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, বন্দরের শেড ইনচার্জ ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন বলে জানান। চাঁদা না দিলে বিভিন্ন নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগড়া সংবাদ প্রচার করে সম্মানহানির হুমকি দিতেন তিনি।
এমনকি তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বন্দর চেয়ারম্যানকে গেস্টহাউসে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো ধৃষ্টতাও তিনি দেখিয়েছেন, যার ফলে বন্দরে তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল।
সুমন হোসেনের এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ করেন, যা পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, চার্জশিট দাখিলের পরও সুমন হোসেনকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে বিভিন্ন পত্রিকার নাম ব্যবহার করে ফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এহেন কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল ছেড়ে ভোমরা বা অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে সুমন হোসেনসহ সকল চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বন্দরের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সরকারের রাজস্ব প্রবাহ সচল রাখতে আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগের দাবি জানান তিনি। এ ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সর্বোত সহায়তা চান।
সংবাদ সন্মেলনে বেনাপোলের অপর এক আমদানি-রপ্তানি কারক রয়েল এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী রয়েল হোসেন সুন্দর সাহা নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় সুন্দর সাহা আমার নামে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।
এই অপপ্রচারের ফলে আমার ব্যবসায়িক সুনাম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলতঃ এই মিথ্যা প্রচারণার প্রতিবাদ এবং এর প্রতিকার চায়।
সংবাদ সন্মেলনে সংগঠনটি'র অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সিনিয়র সহ-সভাপতি-উজ্জল বিশ্বাস সহ ব্যবসায়ী শামীম হোসেন,রহমত উল্লাহ ও অন্যান্য ব্যবসায়ীবৃন্দ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত