ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমি-জমার বিরোধের জেরে সাবেক সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনকে পথরোধ করে মারধর ও টাকা-স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে। পরদিন গত শনিবার (১৬ আগস্ট) ভুক্তভোগী সাবেক সেনা সদস্য থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৩)।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর আলম মিনা ও সিদ্দিক মিনার মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ওইদিন বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে জাহাঙ্গীরকে আটকিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় সিদ্দিক মিনা, তার ছেলে মুন্না মিনা ও স্ত্রী তাসলিমা বেগম।
এ সময় সাবেক সেনা সদস্যকে বেধড়ক মারপিট করার পাশাপাশি তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ—হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা পেঁয়াজ বিক্রির ৭৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম মিনা বলেন, “আমি পেঁয়াজ বিক্রি করে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ সিদ্দিক ও তার লোকজন আমাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। পকেটে থাকা ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্ত্রী চিৎকার শুনে আসলে তাকেও শ্লীলতাহানি করে এবং গলা থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়।”
তার স্ত্রী লিলি বেগম অভিযোগ করেন, “ওরা আমার জামা-কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে। গলা থেকে চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে, স্বামীর কাছ থেকে টাকা কেড়ে নিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত সিদ্দিক মিনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কিছু জানি না। শুধু শুনেছি আমার ছেলে ও জাহাঙ্গীরের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। পরে দেখি তার চোখে আঘাত লেগেছে। আমি নিজেও খারাপ লেগেছে।”
সিদ্দিকের স্ত্রী তাসলিমা বেগম দাবি করেন, “জাহাঙ্গীর আমাকে প্রহার করেছিল। তখন ছেলে মুন্না তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় গাছের সাথে লেগে কেটে যায়। তবে তাকে মারধর করা হয়নি।”
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযুক্ত সিদ্দিক মিনাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত