ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের কাউতলী এলাকায় এন্ডারসন ক্যানেল (কুরুলিয়া খাল) ওপর অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের ১২ নম্বর রেলসেতুতে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বারবার ধাক্কার ঘটনা ঘটতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু নিয়ে তিতাস নদী ও এন্ডারসন ক্যানেল হয়ে নিয়মিত চলাচল করে বালুবাহী বাল্কহেড। এসব ভারী নৌযান চলাচলের সময় প্রায়ই রেলসেতুর পিলার ও গার্ডারে ধাক্কা লাগে। সর্বশেষ একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড ১২ নম্বর রেলসেতুর নিচে আটকে গিয়ে সেতুর বিভিন্ন অংশে মারাত্মক ক্ষতি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর বাল্কহেডটি আটকে পড়লেও পরে ব্রিজের নিচেই বালু নদীতে নামিয়ে নৌযানটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও একই ধরনের ঘটনায় বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় রেলসেতুর গার্ডার সরে যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি বাল্কহেডকে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেতুর পিলারে মেটাল গার্ড স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল, যাতে কোনো নৌযান সরাসরি সেতুতে ধাক্কা দিতে না পারে।
তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রেলপ্রেমী সোহেল রানা ভূইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, রেলসেতুর পিলারে দ্রুত লাইট রিফ্লেক্টিং স্টিকার লাগানো প্রয়োজন, যাতে রাতের বেলায় দূর থেকেই নৌযানগুলো সেতুর অবস্থান বুঝতে পারে। এতে দুর্ঘটনা ও সেতুর ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, দুই দিন আগেই তিনি এই সেতু বালুবাহী বাল্কহেডের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু এবার একটি বাল্কহেড সেতুর বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাল্কহেডটি দ্রুত জব্দ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর কর্মকর্তা নাদিম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, "আমরা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। আমার জানামতে, নৌপথে নৌযান চলাচলের অনুমোদন বিআইডব্লিউটিএ দিয়ে থাকে। আমরা বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কথা বলব। বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবহিত করেছি। তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটি দেখা হবে।"
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই রেলসেতু রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত