জীবনের কিছু ঘটনা মানুষকে ভেঙে দেয়, আবার কিছু ঘটনা নতুন করে বাঁচার প্রেরণা জোগায়। নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা মাসুদ রানার জীবন যেন সেই দ্বিতীয় গল্পেরই এক জীবন্ত উদাহরণ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই তরুণ নেতা এবার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মাসুদ রানা বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়রা জানান, সংগঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের পরিচয় দেওয়া এই তরুণ রাজনীতিক এলাকায় মানবিক ও সাধারণ জীবনযাপনের জন্য সুপরিচিত। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
২০২৩ সালের ৩ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাত আজও ভুলতে পারেননি মাসুদ রানা ও তাঁর পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রশাসন ডিবি পরিচয়ে রাতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানানো হয়, গোপালপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের পাশ থেকে তার লাশ সংগ্রহ করতে।
সংবাদ পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখেন, মাসুদ রানা জীবিত আছেন, তবে হাত-পা বাঁধা এবং শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক-মানসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই ঘটনার পর হয়তো তিনি জনজীবন থেকে দূরে সরে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা।
মাসুদ রানা বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি দ্বিতীয়বার জীবন পেয়েছি। তখন বুঝেছি মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগানো উচিত। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে নতুন করে সাহস দিয়েছে।”
বর্তমানে তিনি বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং তরুণদের নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, “আমি এই এলাকারই সন্তান। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, মানুষের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই। বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, সুশাসিত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বিত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের কল্যাণে কাজ করব।”
বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কঠিন সেই ঘটনার পর মানুষের প্রতি মাসুদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। তিনি নিয়মিত এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।
মাসুদ রানা বর্তমানে বিলমাড়ীয়া বাজার কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের নতুন স্বপ্ন, নতুন সংগ্রাম এবং জনসেবার প্রত্যয় আজ বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের অনেক মানুষের মধ্যেও আশার সঞ্চার করছে।
সময়ই বলে দেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার পরবর্তী অধ্যায় কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তকে জয় করে মাসুদ রানা আজ নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত