জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, বাড়িঘর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাঙামাটিতে ‘সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে জনসাধারণের জ্ঞান ও ধারণা’ জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ‘রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা ও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (FED) রাঙামাটি, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (CLEAN) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BWGED) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।
নীতিপত্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং এ খাতের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখনও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ অবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিপুল অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
তাঁদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটলে বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ জনবল তৈরি, সহজ অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, “ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ শুধু একটি বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস নয়, এটি জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।”
সভায় প্রধান অতিথি রাঙামাটি পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে সরকার আন্তরিক। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (FED) রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সদস্য ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাঞ্চিতা চাকমা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নিরূপা দেওয়ান এবং রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস।
আলোচনায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উপযোগী ভবন ও স্থাপনা চিহ্নিত করা, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকেই ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার কার্বন নিঃসরণ কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন তাঁরা।
সভা শেষে ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা ও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক, কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত