মো. সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- যশোর জেলার শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নে গোগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ধানের শীষের সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ঔ সভায় ইউনিয়ন ও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ যোগ দেন।
শনিবার(৩১ জানুয়ারী) বিকেল ৩টা থেকেই গোগা স্কুল মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। ব্যানার, ফেস্টুন আর ‘ধানের শীষ’ সম্বলিত লিফলেট হাতে নিয়ে মিছিল সহকারে যোগ দেন সমর্থকরা। সভা শুরুর আগেই মাঠের কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পাশের রাস্তায় জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে।
সভায় প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮৫,যশোর-১(শার্শা) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ধানের শীষ মার্কার প্রিয় মানুষ আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন। মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপি'র প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, সভাপতি মো.হাসান জহির,সহ-সভাপতি মহসিন কবির,শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হক ইমদা,যুগ্ম-সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম সহ ঔ এলাকার বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষের জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
শার্শাকে একটি আধুনিক ও মাদকযুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর আশ্বাস দেন প্রার্থীরা।
সভায় গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক সহ স্থানীয় মুরুব্বি ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক বছরে শার্শার মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই এবার তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে উন্মুখ।
এ সময় নুরুজ্জামান লিটন জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারেক রহমান, খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কখনো ক্ষমতার দাপট বা অহংকার প্রদর্শন করেননি। জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বড় বড় সরকারি পদে থাকলেও তারা কখনো নিজেদের পরিচয় দিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি।
নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি নেতাকর্মীদের অতি-উৎসাহী না হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, যারা মানুষের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তারা সমাজ, দল বা পরিবারের জন্য কল্যাণকর নয়। স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আগামী দিনে 'ভালো মানুষ' ছাড়া কেউ বিএনপি করতে পারবে না।
তারেক রহমানের নির্দেশে রাজনীতিতে জনগণের সেবক হওয়া এবং মানুষের সম্মান রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। পরিশেষে, তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি/২০২৬ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন-কে জয়যুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবরা অনেক সময় অস্বচ্ছল অবস্থায় থাকেন। সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্যের জন্য চাল, ডাল বা সামান্য টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন, যা দিয়ে তাদের জীবন চালানো কঠিন হয়। অনেক ইমামের মাসিক বেতন ৫ হাজার, ৩ হাজার বা তার চেয়েও কম।
১০ হাজার টাকা বেতন পান এমন ইমামের সংখ্যা খুবই নগণ্য। দলের নেতা তারেক রহমান এর বরাত দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে প্রতিটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবদের জন্য মাসিক সরকারি সম্মানী বা বেতন নিশ্চিত করা হবে।
এই সুবিধা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও মাসিক বেতনের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া ঈদ, দুর্গাপূজা এবং বড়দিনের মতো প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ধর্মীয় নেতাদের জন্য উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম, কোরআন এবং হাদিসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, তারা প্রচারণা চালাচ্ছে যে "দাঁড়িপাল্লা" মার্কায় ভোট দিলে মানুষ বেহেশতে যাবে, যা কোরআন বা হাদিসের কোথাও নেই।
তিনি হজরত ফাতেমা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন যে, নবী করিম (সা.) কখনো তার প্রিয় কন্যাকে ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে বলেননি। তিনি দাবি করেন, নারীদের এভাবে রাজনৈতিক বা প্রচার কাজে ব্যবহার করা ইসলাম সমর্থন করে না।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে নতুন করে কারো কাছ থেকে শেখার কিছু নেই, বরং নবীর দেখানো পথ অনুসরণ করাই যথেষ্ট। ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, পরকালে সর্বপ্রথম জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে একদল ভণ্ড আলেম বা ইমাম যারা নিজেদের অনেক বড় ধর্মীয় নেতা হিসেবে দাবি করে কিন্তু অন্তরে সততা নেই।
এছাড়া লোকদেখানো দান-খয়রাত করা ব্যক্তিরাও কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে। জামায়াতের প্রার্থীদের একটি প্রচারণার সমালোচনা করে বলেন, তারা দাবি করে যে তাদের প্রতীকে ভোট দিলে সরাসরি জান্নাতে যাওয়া যাবে—যাকে তিনি অযৌক্তিক এবং হাস্যকর বলে অভিহিত করেন।
মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার থাকার আহবান জানান।
শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজিত ঔ সভা শেষে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঘরে ঘরে ভোট ও দোয়া চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সভায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত