শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর : অতিরিক্ত ইজিবাইক ও অটোরিকশার কারণে শেরপুর জেলা শহরে দিন দিন যানজট বেড়ে চলেছে ।এতে অতিষ্ঠ শহরবাসী। প্রতিদিনের যানজটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল ও চালকের অদক্ষতার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাদের দাবি,অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে যানজট কমছে না।
এছাড়াও শহরের সড়কগুলোর পার্শ্বে অবৈধ দোকান, শহরে গড়ে ওঠা মার্কেট ও ভবনে যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করাসহ নানা কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক সরু হওয়া, সড়কের মোড়ে মোড়ে রিক্সা গ্যারেজ, স্ট্যান্ড গড়ে তোলা ও সড়কে দাড়িয়ে পৌর টোল ও সমিতির চাদাঁ আদায়, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে না ওঠাও যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন পৌরবাসি।
জানা যায়, শেরপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে সাড়ে চার হাজারেরও বেশী ব্যাটারি চালিত ও তিন চাকার রিক্সার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে আসছে আরো রিক্সা। বিশিষ্টজন ও নাগরিকদের দাবি, জেলা শহরে প্রতিনিয়ত ৬/৭ হাজার অটোরিকশা ও তিন চাকার রিক্সার চলাচল করে। ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।
জেলা শহরের জেলা হাসপাতাল রোড, শাপলাচত্তর খোয়ারপাড় মোড়, তিনআনি বাজার, নয়াআনি বাজার, জেলা প্রশাসক অফিস মোড়, বটতলা, নিউমার্কেট, থানা মোড়, তাতালপুর, শেখহাটি, সদর উপজেলার কুসুমহাটি, কানাসাখোলা, বাজিতখিলাসহ বিভিন্ন সড়কে যানজটে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। এদিকে যানজট নিরসনের জন্য নাগরিক, বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ দাবি জানিয়ে আসছে।
তারা যানজট নিরসনে সড়ক সম্প্রসারণ, রাস্তার দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা নিয়ন্ত্রণ, সড়কে একমুখি চলাচল, রাস্তা থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারন করে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের দাবি জানান।
সেইসাথে প্রশাসন-পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় জোরদার করারও দাবি জানান। যানজট নিয়ন্ত্রণে শহরের চতুর্দিকে চক্রাকারে বাইপাস সড়ক নির্মাণসহ শহরের উন্নয়নে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নাগরিক সভা করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান করারও দাবি জানান।
শহরের খরমপুর মহল্লার বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ বলেন, শহরে জনসংখ্যার তুলনায় ইজিবাইকের সংখ্যা এখন অনেক বেশি। প্রতিটি ইজিবাইক একজন বা দুজন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। এছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার জন্য যানজট লেগেই থাকে।
নিউমার্কেট থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। অথচ দেড় কিলোমিটারের এই রাস্তাটুকু যাতায়াতে সময় লাগার কথা ৫ থেকে ৭ মিনিট। এতে আমাদের সময়ের অপচয় হচ্ছে। একই মহল্লার শিক্ষার্থী আবরার আহমদ বলেন, স্কুলে যাওয়ার জন্য ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে বের হতে হয়।
যানজটের কারণে অনেক সময় ক্লাসে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়। নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী বাপ্পী দে বলেন, পৌরসভার চেয়ে শহরে ইউনিয়নের গাড়ি বেশি হয়ে গেছে। আর গাড়ির সংখ্যা শহরের তুলনায় অনেক বেশি।
যানজট নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা সময় উদ্যোগ নিলেও রাজনৈতিক নেতা, সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চালকদের অসহযোগিতার কারণে তা বেশিদিন টিকে থাকেনি। ইতিপূর্বে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাকে সাদা ও লাল রং দিয়ে পর্যায়ক্রমে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তখন যানজট হ্রাস পেয়েছিলো। কিন্তু অটোরিকশা চালকরা রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে এ নিয়মকেও ভেঙ্গে দেয়। ফলে যানজট আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি শেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে যানজট নিরসনে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শেরপুর পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান জানান, জেলা প্রশাসন অফিসের পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা কর হয়েছে। সভায় শহরের যানজট নিরসনে আগামী ১ জুলাই থেকে পৌরসভার লাইসেন্সবিহীন সকল সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান ভুঁঞা বলেন, মতবিনিময় সভায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জনদূর্ভোগ লাগবে আমরা কর্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত