আমিনুল ইসলাম আহাদঃ গ্যাস সংকটের অজুহাতে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সড়কে সিএনজি অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত দুইদিন ধরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আন্তঃউপজেলা রুটে পূর্বনির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বুড়িচং সদর থেকে কুমিল্লা শাসনগাছা পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে একই পথে ৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার রামমোহন ও আড্ডা রোডেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চান্দিনা উপজেলার বরকুইট রোডেও একই অভিযোগ রয়েছে। চান্দিনা থেকে দেবিদ্বার রুটে আগে ভাড়া ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে এ পথে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ থেকে কুটি চৌমুহনী রুটেও একই চিত্র। এ পথে আগে ভাড়া ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন সিএনজি চালক বলেন, “গ্যাস পাম্পে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় ১০০ থেকে ১২০ টাকার গ্যাস কিনে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তাই কিছুটা অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে।”
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে চালকদের খরচ বাড়লেও তার পুরো চাপ সাধারণ যাত্রীদের ওপর দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় নাম্বারবিহীন ও ‘অনটেস্ট’ সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও প্রশাসনের সামনে দিয়েই এসব যানবাহন চলাচল করছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন সিএনজি চালকের সঙ্গে কথা হলে তারা দাবি করেন, “মানতি দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি।” তবে ‘মানতি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানাননি।
এ বিষয়ে মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিল ৮০ টাকা। বর্তমানে এ পথে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে হলাপাড়া, লালপুর, বাইশমোজা, তালশহর, আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি।
অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে আপনারা অভিযোগ করতে পারেন। আমি এখানে মাত্র কিছুদিন হলো জয়েন করেছি।”
অন্যদিকে এ বিষয়ে কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আলম বলেন, “নির্দিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। অনটেস্ট সিএনজির বিরুদ্ধে অচিরেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সিটি ও মেট্রো এলাকায় প্রতিটি সিএনজি মিটারের মাধ্যমে প্রতি কিলোমিটার হিসেবে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে।”
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে সাতজন সিএনজি অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়লে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারিত ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা। কিন্তু কোনো ঘোষণা বা অনুমোদন ছাড়াই চালকদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হলে এর বাড়তি চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
তাদের দাবি, গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো এবং নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়লেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত ভাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট থাকা জরুরি। তা না হলে সংকটের সুযোগ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ আরও বাড়তে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত