হাসনাত তুহিন ফেনীঃ- মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী বলেন, এ দেশ চারবার স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জন করলেও আমাদের থেকে বৈষম্য দূর হয় নাই। একাত্তরে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, কিন্তু আমরা এগুলো ভুলে গিয়ে ভারতের নীতি আদর্শ গ্রহণ করেছিলাম। সুতরাং ভারতের সংবিধানে যে চারটি মূলনীতি রয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সে মূলনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
পুঁজিবাদী অর্থনীতি মানুষকে মুক্তি দিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যতদিন ইসলামী অর্থব্যবস্থা দিয়ে দেশ পরিচালিত না হবে, ততদিন এ দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। বিগত দিনে আমরা আওয়ামী লীগের শাসন দেখেছি, বিএনপির শাসন দেখেছি, জোটের শাসন দেখেছি, এরশাদের শাসন দেখেছি, কিন্তু কোনো দুর্নীতি কমে নাই, মানুষের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন হয় নাই। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করে জনগণকে বাঁচাতে হবে। যানজট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পতিত সরকারের প্রেতাত্মা এখনও বিভিন্ন প্রশাসনে বসে ষড়যন্ত্র করছে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের কঠোরভাবে বয়কট করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাগনভূঞা উপজেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে উপজেলা উত্তর সভাপতি মাওলানা আলাউদ্দিন সাবেরীর উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা দক্ষিণের সেক্রেটারি মুফতী সোহাইল কাসেমী ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আতিকুল্লাহ আল মামুন-এর যৌথ সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ফারুক আহমদ। গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী।
প্রধান বক্তা মাওলানা নুরুল করীম আকরাম বলেন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটারের ভোটের মূল্যায়ন হয়। কোনো ভোট বিফলে যায় না। নির্বাচনে যে দল মোট প্রদত্ত ভোটের যত শতাংশ পাবে, সেই অনুপাতে সংসদে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে। বিশ্বের অনেক দেশে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা (P,R) পদ্ধতি অনুসরণ করছে। অনেক আগেই আমরা প্রস্তাব রেখেছিলাম। আমরা ধারাবাহিকভাবে এ দাবিতে আন্দোলন করে আসছি দীর্ঘদিন থেকে। তিনি বলেন, বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এটা করলে ছোট দলগুলো আর বৈষম্যের শিকার হবে না। পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে মনোনয়ন বাণিজ্য ও দুর্নীতিও থাকবে না। প্রতিটি ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে। মানুষের ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হলে দেশ গড়ায় তারা আরও উৎসাহিত হবে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল করিম, উপদেষ্টা মাওলানা মীর আহমদ মীরু, সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাওলানা একরামুল হক ভূঁইয়া, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাহিদ হাসান চৌধুরী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ নাদের চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়াও সমাবেশে জেলা, উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত