নাহিদ হাসান নওগাঁঃ নদীর একুল ভাঙ্গে ওই কুল গড়ে এইতো নদীর খেলা। নদীর দুই কুলের বাসিন্দাদের যাতায়াতে নির্ভরশীল শুকুর আলীর ভেলা।কূলহীন এই সংসার দরিয়ার আমি এক বৈঠাবিহীন মাঝি;সেই ছোট্ট তরী ডুবুক-ভাসুক, তাতে যায়-আসে কার কতখানি?
ঠিক এই কয়েকটি লাইনের মতোই এক মাঝি শুকুর আলী। দীর্ঘ ২২ বছর নওগাঁর ছোট্ট যমুনা নদীতে মানুষ পারাপারের অর্থ দিয়েই চলে শুকুর আলী সংসার। ৫ টাকায় নদী পথ পাড়ি দিয়ে শহরে প্রবেশ করা যায় শুকুর আলীর নৌকায়। এতোক্ষণ বলছিলাম নওগাঁ শহরের কোল ঘেঁসে বয়ে চলা ছোট্ট যমুনা নদীর এক নৌকার মাঝির দৈনন্দিন জীবনের গল্প।
শুকুর আলী বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। নওগাঁ ছোট্ট যমুনা নদীর পূর্ব দিকের গ্রামের বাসিন্দা তিনি। দীর্ঘ ২২ বছর শুকুর আলী এই নদীতেই নৌকায় করে মানুষ পারাপার করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। প্রথম দিকে নদী পথ পাড়ি দিতে খরচ নিতেন ২ টাকা। কালক্রমে বর্তমান নদী পার হতে জন প্রতি খরচ নেন ৫ টাকা।
প্রতিদিন শুকুর আলীর নৌকায় প্রায় শতাধিক মানুষ নদী পারাপার হন। যা থেকে দিনে প্রায় ৫০০ টাকার মতো ইনকাম হয় শুকুর আলীর। আর এই অর্থ দিয়েই চলে শুকুর আলীর সংসার।
তবে ব্যাতিক্রম এক কৌশলে শুকুর আলী নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করেন৷ যেখানে বৈঠা বাইতে হয়না তাকে। নদীর দুই পাড়ে বাঁশের খুঁটি গেঁড়ে সেখানে রশি লাগিয়ে সেই রশি টেনেই নৌকা নদী পথে পরিচালনা করেন শুকুর আলী। এতে পরিশ্রম কম হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে নদীর উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে দুইটা ব্রিজ তৈরী হওয়ায় মানুষ নৌ পথে কম আসা-যাওয়া করায় বর্তমান চিন্তিত শুকুর আলী। তিনি বলেছেন আগে ২ টাকা করে নিয়েও দিন শেষে যা উপার্জন হইতো তা দিয়ে সুন্দর ভাবে পরিবার পরিচালনা করতে পারতাম। কিন্তু এখন জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি এবং মানুষ নৌ-পথে চলাচলের আগ্রহ হারায় পরিবার নিয়ে চিন্তার মধ্যে রয়েছি।
এ সময় রুবেল নামের এক পথিক এর সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, আমি প্রায় ৩ বছর ধরে নিয়মিত নদী পারাপার হই। নদীর পশ্চিম পাশেই নওগাঁ সদর। জীবিকার তাগিদে আমি প্রতিদিন সদরে যাই৷ আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসি। শুকুর আলী চাচা প্রতিদিন নৌকা নিয়ে ঘাটে বসে থাকেন।
চাচার নৌকা যদি না থাকতো তাহলে আমাকে কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বাড়ি যেতে হইতো৷ যাতে অর্থ ও বেশি খরচ হইতো সঙ্গে ভোগান্তি তো হইতো। কিন্তু এই নৌকা থাকায় ৫ মিনিটেই নদী পার হয়ে একটু হেঁটে বাড়ি চলে যাই। এতে সময় ও বাঁচে খরচ ও বাঁচে। অনেক সময় জরুরী কোনো কাজে তাড়াতাড়ি সদরে যেতে হলে এই নৌকা থাকায় অনেক সহজ হয় আমাদের পারাপারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561
© সময়ের আবর্তন ২০২০ - ২০২৫ সর্বসত্ব সংরক্ষিত