উল্লাপাড়ায় হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে হ্যাচারী পল্লী পরিচিতি ভুতগাছা

প্রকাশিত: ৮:১১ পূর্বাহ্ণ , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

সাহারুল হক সাচ্চু,উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভূতগাছা গ্রামে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন খামার (হ্যাচারি) একের পর এক গড়ে উঠছে। এরই মধ্যে বড় ছোটো মিলে প্রায় ২৫ টি হ্যাচারী হয়েছে। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার হাঁসের বাচ্চা বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও খামারিরা এখানকার খামারগুলোয় উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে যান।

এখন ভূতগাছা গ্রাম এলাকা হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রিতে দেশের মধ্যে সেরা মোকাম বাজার হয়েছে। গ্রামের অনেকেই খামার দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বহু সংখ্যক নারী ও পুরুষ এখানে খাটছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নগরবাড়ী মহাসড়কের পাশে বড়হর ইউনিয়নের ইসলামপুর নামের চেয়ে গ্রামটি ভূতগাছা গ্রাম নামে বেশী পরিচিতি পেয়ে আছে। এখন গ্রামটিতে বড় ছোটো মিলে প্রায় ৩০ টি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন খামার গড়ে উঠেছে। এখানকার খামারগুলো হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন হ্যাচারী নামে বেশী পরিচিতি পেয়েছে।

প্রায় ত্রিশ বছর আগে নিজ ভুতগাছা গ্রামে প্রথম আ. হামিদ মোল্লা (৬৮) হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন খামার গড়েন। তার খামার মোল্লা হ্যাচারী এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে জানা গেছে।

এর পর ভুতগাছা গ্রামে একের পর এক আরো গড়া কয়েকটি হ্যাচারী ও খামার মালিক হলেন মোতালেব মোল্লা, রাবেয়া হ্যাচারী , খান হ্যাচারী, সুজাব হ্যাচারী , মিতু হ্যাচারী , সরোয়ার আলী, মাওয়া হ্যাচারী।

প্রতিবেদককে মোল্লা হ্যাচারী মালিক আ. হামিদ মোল্লা বলেন, তার খামারে এখন চারদিন পর পর আট হাজার ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো ( উৎপাদন ) হয়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা এলাকা ও পাবনাসহ আরো বিভিন্ন এলাকা থেকে হাঁসের ডিম কিনে আনা হয়। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ডিম সংগ্রহ করেন। তিনি নগদ টাকায় ডিম কেনেন।

তিনি আরো বলেন তার খামারসহ এখানকার অন্য খামারগুলোয় উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা কুমিল্লা , ময়মনসিংহ , জামালপুর, টাঙ্গাইল , পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া , খুলনা , বগুড়া , জয়পুরহাট জেলা এলাকাসহ আরোও অনেক জেলার ব্যবসায়ীরা পাইকারী কিনে নিয়ে যান। এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সেসব এলাকার ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা হাঁসের বাচ্চা কিনে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করে থাকেন।

এছাড়া ভুতগাছা থেকে সরাসরি বিভিন্ন এলাকার খামারিরা হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে যান। এলাকার ফড়িয়ারা প্রতিদিন এখানকার খামারগুলো থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে গ্রামে ফেরি করে বেচেন বলে জানা গেছে।

রাবেয়া হ্যাচারী মালিক আবু তালেব প্রামাণিক বলেন তার খামার থেকে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের চাহিদায় ( বিক্রি করা ) নানা বাহনে হাঁসের বাচ্চা পাঠানো হয়। মিতু হ্যাচারী মালিক মিজানুর রহমান বলেন পাইকারি ও খুচরা খদ্দেরদের কাছে তিনি হাঁসের বাচ্চা ও মুরগীর বাচ্চা বিক্রি করেন।

ভুতগাছা গ্রামের নামদার সরকার এক সময় এখানকার খামারের হাঁসের বাচ্চা ভ্যান রিকসা নিয়ে গ্রামে বেচতেন। এখন নিজে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাঁসের বাচ্চার চাহিদা পরিমাণ ও বিক্রি বাবদ টাকা নিয়ে নিজ দায়িত্বে তা ব্যবসায়ীদের মোকামে পাঠান।

গতকাল সোমবার ভুতগাছায় বিভিন্ন খামার গিয়ে গ্রামীণ অনেক নারীকে হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এরা পনেরো থেকে বিশটি হাঁসের বাচ্চা বসত বাড়ীতে লালন পালনে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এদের কথায় হাঁসের বাচ্চা লালন পালন সংসারে বাড়তি আয় করবেন ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. শেখ এম এ মতিন বলেন হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও লালন পালনে খামারীদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর