
বিশ্বের বিভিন্ন শিল্প খাতে ব্যবসার পরিচালনপদ্ধতি বদলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। তবে আমেরিকার বিখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি প্যালানটিয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্স কার্প বলেছেন, কীভাবে কার্যকারিতা তৈরি করছে তা স্পষ্ট না দেখিয়েই অনেক প্রতিষ্ঠান এআই গ্রহণের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিচ্ছে।
প্যালানটিয়ারের ‘এআইপিকন ১০’ অনুষ্ঠানে টিবিপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্প অতিরিক্ত এআই ব্যবহারকে ‘পর্ন আসক্তির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রকৃত ব্যবসায়িক ফলাফলের তোয়াক্কা না করে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার এবং কম্পিউট খরচের পেছনে ছোটার প্রবণতা অর্থাৎ টোকেনম্যাক্সিংয়ের সমালোচনা করেন তিনি।
অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবহারের পরিমাপক নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বলেন, মানুষ সারাদিন শুধু সেখানে বসেই থাকছে, যা এক ধরণের পর্ন আসক্তির মতো। কার্প বলেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত কার্যকারিতা মূল্যায়নের চেয়ে টোকেন ব্যবহার বাড়ানোকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে।
এআই শিল্পে বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) লেখা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও তৈরি করার জন্য একক হিসেবে ‘টোকেন’ ব্যবহার করে। বেশিরভাগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টোকেনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বিল তৈরি করে; যার ফলে এটি বিক্রেতা এবং গ্রাহক উভয়ের জন্যই ব্যবহারের প্রধান পরিমাপক হয়ে উঠেছে।
কার্পের এই সমালোচনা গত মাসে প্যালানটিয়ারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) শ্যাম শংকরের আয়ের হিসাব সংক্রান্ত সভায় করা মন্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। শংকর বলেছিলেন, প্যালানটিয়ার একটি ‘‘নো স্লপ জোন’’ (অর্থহীন কাজ বর্জিত এলাকা) হিসেবে কাজ করে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, সস্তা এআই এবং বেশি টোকেন মানেই প্রকৃত ব্যবসায়িক মূল্য তৈরি হওয়া নয়।
শংকর বলেন, বেশি টোকেন মানে আরও বেশি অর্থহীন কাজ এবং আপনি যত বেশি সাধারণ বা কমদামী বুদ্ধিভিত্তিক সেবা গ্রহণ করবেন, অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ করতে পারে এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তত বেশি বাড়বে, যাতে আপনি এর অর্থনৈতিক মূল্যকে কাজে লাগাতে পারেন।
কার্প বলেন, চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর প্রতিবেদন তৈরির মতো অনেক কাজেই এআই মডেলগুলো বেশ পারদর্শী। তবে সরবরাহ চেইন, শিল্প পরিচালনা, সামরিক লজিস্টিকস, উৎপাদন এবং তেল ও গ্যাস খাতের মতো জটিল ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য ক্রমাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপ্রবাহের প্রয়োজন হয়; যা চ্যাটবটের উত্তরের চেয়েও অনেক বেশি কিছু।
তিনি বলেন, সেসব ক্ষেত্রে বৃহৎ ভাষা মডেল মানুষের কাজকে আরও উন্নত করতে পারে। তবে মূল প্রক্রিয়াগুলোকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। সেগুলো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের মাধ্যমে উন্নত হয়। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় না।
কার্পের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এআইয়ের সক্ষমতা সবার জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠবে। তবে প্রকৃত কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো কোন ব্যবসায়িক সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা।
সূত্র: এনডিটিভি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
শার্শায় ৩২টি পূজা মণ্ডপে নুরুজ্জামান লিটনের নিজস্ব অর্থায়নে...
শার্শায় ৩২টি পূজা মণ্ডপে নুরুজ্জামান লিটনের...
টিনের ঘরে মাশরুম চাষ, ইউটিউব দেখে ৩ বন্ধুর...
টিনের ঘরে মাশরুম চাষ, ইউটিউব দেখে...
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে গড়ে তোলার...
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে...
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার উপহার বিতরণ
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন! ক্ষেতলালে...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে...
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা পৌরবাসীর
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা...