
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও দখল বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের বালিজুড়া গ্রামে। অভিযুক্ত পরশ মিয়া মাসকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
ভুক্তভোগী আনোয়ার খান বাবুর অভিযোগ, তার দুই ফুফুর ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধের সময় পরশ আলী সালিশের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে তাদের কাছ থেকে নিজের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নেন।
পরে বিষয়টি ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপির নেতাদের জানানো হলে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা হয়।
বাবুর দাবি, সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে পরশ আলীকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই টাকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূইয়া সুমনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
তবে কয়েক মাস ঘোরানোর পর পরশ আলী দুই কাটা জমি কম দিয়ে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু রেজিস্ট্রির পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও জমির দখল বুঝিয়ে না দিয়ে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করছেন। টাকা না দিলে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরশ মিয়া বলেন, তিনি জমি বেদখল করে রাখেননি। বরং ক্রেতা পক্ষের কাছ থেকে এখনও এক লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা না দেওয়ায় দখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে জমিতে তিনি চাষাবাদ করছেন সেটিও বৈধভাবে ক্রয় করা। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে স্ত্রী-সন্তান বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও জানান তিনি।
ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামির খান বলেন, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি দেওয়ার কথা থাকলেও দুই কাটা কম দিয়ে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে জমি দলিল হয়। পরে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করে সে। টাকা না দিলে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া একদিন কেন্দুয়া থেকে কয়েকজন লোক ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আবু সাঈদ খান বলেন, পরশ আলী বিভিন্ন বিরোধে পক্ষপাতমূলক সালিশ করেন।
অর্থের বিনিময়ে ন্যায়কে অন্যায় এবং অন্যায়কে ন্যায় প্রমাণের চেষ্টা করেন। তার নিজের ওয়ারিশি জমি নিয়েও পরশ আলী জটিলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাসকা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর বলেন, পরশ মিয়া ও তার কয়েকজন ভাই এবং ঘনিষ্ঠ লোকজন মিলে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। তাদের প্রভাবে বাবুর ফুফুদের কাছ থেকে জমি নিজের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, যে জমি দুই লাখ টাকায় সমাধান করা সম্ভব ছিল, সেটির জন্য এখন সাত লাখ টাকাসহ আরও গুনতে হয়েছে। এই প্রতারণার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ভুক্তভোগীর আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।
বালিজুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক উপজেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান পাঠান বলেন, পরশ মিয়া একজন দাঙ্গাবাজ ও ভূমিদস্যু। তিনি গ্রামের বিভিন্ন সালিশে প্রভাব বিস্তার করে একপক্ষের হয়ে বিচার করেন।
বাবুর ফুফুদের জমি দুই লাখ টাকায় মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরশ আলী কৌশলে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে আর কয়েকটি পরিবারে এধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূইয়া সুমন বলেন, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে সম্পূর্ণ জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক মাস বিলম্বের পর দুই কাটা কম জমি রেজিস্ট্রি করে ৭ লাখ টাকা নিয়েছে।
এরপরও জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, পরশ আলী বিএনপির নেতা হলেও তার আচরণ স্বাভাবিক মনে হয় না। টাকার প্রতি অতিরিক্ত লোভ থেকেই এসব ঘটছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার উপহার বিতরণ
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন! ক্ষেতলালে...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে...
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা পৌরবাসীর
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা...
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা...
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার
অমিতাভ বচ্চনকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ আদালতের
অমিতাভ বচ্চনকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ আদালতের