
মজিবুর রহমান, নেত্রকোনাঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মরমি সাধক বাউল জালাল উদ্দিন খাঁ’র নামে নির্মিত ‘জালাল মঞ্চ’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগে সর্বত্র প্রশংসা কুড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মঞ্চটির উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। উদ্বোধনের পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় দর্শক মাতিয়ে তোলেন বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী, বাউল সুনীল কর্মকার, সালাম সরকার, মুকুল সরকারসহ স্থানীয় শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, জালাল খাঁ’র দৌহিত্র তৌফিক আহমেদ খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, জেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, কবি তানভীর জাহান চৌধুরী এবং কেন্দুয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সেকুল ইসলাম খান।
এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত এই ‘জালাল মঞ্চ’কে কেন্দুয়া সংস্কৃতিচর্চার নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংস্কৃতি অনুরাগীরা। অনেকে বলছেন, ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ও বাউল ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদারের এই উদ্যোগ প্রেরণাদায়ক ভূমিকা রাখবে।
“কে এই জালাল উদ্দিন খাঁ” : জালাল উদ্দিন খাঁ নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার আসদহাটি তেতুলিয়া গ্রামে ১৮৯৪ সালে ২৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে ৩১ জুলাই তিনি মারা যান।
তাঁর পিতার নাম সদরুদ্দীন খাঁ। তাঁর দাম্পত্য সঙ্গী ছিলেন ইয়কুতুন্নেছা। জালাল উদ্দিন খাঁ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সিংহেরগাঁও শ্বশুরালয়ে অবস্থান করেন এবং মৃত্যুর পর সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
বিংশ শতাব্দীর বিশ থেকে ষাটের দশক অবধি প্রাকৃত বাঙালিজনের এই গীতিকবি তার সাধনায় সক্রিয় ছিলেন। আত্মতত্ত্ব, পরমতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, লোকতত্ত্ব, দেশতত্ত্ব ও বিরহতত্ত্বের নামাঙ্কিতের মাঝে জালাল উদ্দিন প্রায় সহস্রাধিক গান রচনা করেছিলেন। প্রখ্যাত এই লোক কবি মালজোড়া গানের আসরেও ছিলেন অনন্য।
তার জীবদ্দশায় চার খণ্ডের ‘জালাল-গীতিকা’ গ্রন্থে ৬৩০টি গান প্রকাশিত হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় ‘জালাল-গীতিকা’ পঞ্চম খণ্ড। সেই খণ্ডে গানের সংখ্যা ৭২টি।
মোট ৭০২টি গান নিয়ে ২০০৫ সালের মার্চে প্রকাশিত হয়েছে ‘জালাল গীতিকা সমগ্র।’ জালাল তার গানগুলোকে বিভিন্ন ‘তত্ত্ব’তে বিন্যস্ত করে প্রকাশ করেন। বাংলা লোকসংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে সরিয়ে দিল...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...