কেন্দুয়ায় ‘বীরনিবাস’ প্রকল্পের ঘর নিয়ে অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ , ২০ অক্টোবর ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান, নেত্রকোনা : নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ‘বীরনিবাস’ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বীরনিবাসপ্রাপ্ত প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের একমাত্র ছেলে শফিউল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগে শফিউল ইসলাম জানান, তার পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন (সনদ নং ম ১৯২৮২৭)। সরকারের মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ‘বীরনিবাস’ প্রকল্পের অধীনে তার পিতার নামে পিত্রালয়ে একটি ঘর অনুমোদন হয়।

কিন্তু তার ভগ্নিপতি রেজাউল করিম ওরফে রেজু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনুমোদিত স্থান পরিবর্তন করে ঘরটি ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের কাউরাট (পাছপাড়া) গ্রামে নির্মাণ করেন। এতে তিনি, একজন মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র ছেলে হিসেবে, ঘর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৭ জনের নামে আবাসন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। ওই তালিকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের স্ত্রী রওশন আক্তারের বর্তমান ঠিকানা কাউরাট মিমূলাটিয়া গ্রামে ঘর নির্মাণের তালিকাভুক্ত হয়।

শফিউল ইসলাম বলেন, তার বাবা মারা যাওয়ার পরপরই তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। অদ্যবধি সেখানে বসবাস করছেন। মা ও বোনকে ভুল বুঝিয়ে বাবার নামে ঘরটি আমাদের জায়গা সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নানার বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে। আমার ভগ্নীপতি মুলত ঘরটি ব্যবহার করছেন। এখানে আমাকে ঠকানো হচ্ছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন তিনি।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রওশন আক্তার বলেন, “আমার স্বামী ৩৫ আগে আগেই মারা গেছেন। পরে বড় ছেলে ঢাকায় চলে গেছে। আমি নিরুপায় হয়ে ছোট দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি কাউরাট শিমূলাটিয়ায় চলে আসি এবং তখন থেকে সেখানেই থাকি। ঘর যখন আমাদের নামে এসেছে, তখন আমি যেখানে আছি, সেখানেই ঘর দিতে বলেছি। আর সরকার ঘরে করে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, “ বড় ছেলে এখনও ঢাকায় থাকে, আমার খোঁজখবর নেয় না। মেয়ের জামাই-ই আমাকে সবকিছুতে সাহায্য করে।”

ভগ্নিপতি রেজাউল করিম বলেন, “আমি বিয়ের পর থেকেই শাশুড়িকে দেখভাল করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়।”

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর