খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ , ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস—বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসের শুরুতে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়।

সকালে চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতকে সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা উদ্বোধন করা হয়, যেখানে চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্পপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এছাড়াও খাগড়াছড়ি অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহতদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। বিকেলে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন একাদশ বনাম পার্বত্য জেলা পরিষদ একাদশের মধ্যে একটি প্রীতিম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তমঞ্চ ও শাপলা চত্বরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরবরাহকৃত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সদরে পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত জিরো মাইল সংলগ্ন হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝর্ণা ও মায়াবিনী লেক সাধারণ দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়। একইভাবে জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝর্ণা ও মায়াবিনী লেকেও বিনা টিকিটে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক এম এন আবসার, উপদেষ্টা জাকিয়া জিন্নাত বিথী, সহ-সভাপতি প্রবীন চন্দ্র চাকমা, ক্ষেত্র মোহন রোয়াজাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এর আগে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর উদ্যোগেও চেঙ্গী স্কয়ার থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর