• ঢাকা দেশজুড়ে
  • গুলিস্তানে জনগণের প্রতিবাদের মুখে গরুর গোশত রাখার ঘোষণা দিলো ২ খাবার হোটেল

গুলিস্তানে জনগণের প্রতিবাদের মুখে গরুর গোশত রাখার ঘোষণা দিলো ২ খাবার হোটেল

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ , ২ জানুয়ারি ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

রাজধানীর গুলিস্তানে জনগণের প্রতিবাদের মুখে গরুর গোশত রাখবে বলে নিশ্চিত করেছে দুটি খাবার হোটেল। হোটেল দুটির নাম নিউ রাজধানী ও হোটেল রাজ। আজ ২রা জানুয়ারী, ২০২৫, রোজ- বৃহস্পতিবার দুপুরে জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে তারা নো-বীফ নীতি থেকে সরে এনে গরুর গোশত রাখার ঘোষনা দেয়।

উল্লেখ্য, আজ ২রা জানুয়ারী, ২০২৫, রোজ-বৃহস্পতিবার, দুপুরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানে হযরত গোলাপ শাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি মাজার শরীফ সংলগ্ন হোটেল নিউ রাজধানী ও হোটেল রাজের সামনে গরুর গোশত রাখার দাবীতে মুসলিম ভোক্তা অধিকার পরিষদ নামক একটি সংগঠন সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্থাৎ শতকরা ৯৮ জন মানুষ হচ্ছেন মুসলমান। মুসলমানরা খাবার হোটেলে গরুর গোশত খেতে চায়। কিন্তু গরুর গোশতের ব্যাপক চাহিদা থাকার পরও গুলিস্তানের হোটেল রাজধানী, নিউ রাজধানী বা হোটেলে রাজ কর্তৃপক্ষ হিন্দুত্ববাদীদের কথা বলে হোটেলে গরুর গোশত রাখে না। এতে মুসলিম ভোক্তারা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হিন্দুত্ববাদীদের কথা চিন্তা করে হোটেলকে গরুর গোশত না রাখা একটি জঘন্য অপরাধ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের খাদ্য অধিকার হরণ। মুসলিম ভোক্তা অধিকার পরিষদের বক্তাগণ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতে প্রতিনিয়ত গরুর গোশতের জন্য মুসলমানদের নির্মমভাবে শহীদ করা হচ্ছে।

এই দৃশ্য দেখার পরও যে সব হোটেল মালিক হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ নিয়ে তাদের হোটেলে গরুর গোশত রাখে না, তারা ভারতের উগ্রহিন্দুবাদীদের দালাল ও বিজেপির এজেন্ট। তারা বাংলাদেশকে ভারত বানাতে চায়। হিন্দুত্ববাদী পরিবেশ তৈরী করতে চায়, যেখানে গরুর গোশত নিষিদ্ধ বলে সবাই জানবে।

মুসলিম ভোক্তা অধিকার পরিষদের বক্তাগণ বলেন, ইউরোপ-আমেরিকায় ইহুদী খ্রিস্টানরা মুসলমানদের কথা বিবেচনা করে কখনই হোটেলে হালাল খাবার রাখে না। বাধ্য হয়ে মুসলমানরা নিজেদের জন্য পৃথক হালাল হোটেল খুলে।

হিন্দুদের যদি প্রয়োজন হয়, তবে তারা নিজেদের জন্য হিন্দু নাম দিয়ে পৃথক হোটেল খুলুক, কিন্তু মুসলিম হোটেলে হিন্দুদের জন্য মুসলমানদের বঞ্চিত করে তারা গরুর গোশত বন্ধ রাখবে এমনটা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

মুসলিম ভোক্তা অধিকার পরিষদের বক্তাগণ বলেন, মুসলিম ভোক্তা অধিকার পরিষদের বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা করতে হলে খাবার হোটেলগুলোকে বাধ্যতামূলক গরুর গোশত রাখতে হবে। হোটেলে গরুর গোশত থাকা প্রমাণ করবে ঐ হোটেল মালিক ভারত কিংবা হিন্দুত্ববাদীদের দালাল নয়।

যদি কোন হোটেলে একটিও গরুর গোশতের তরকারী না থাকে, তবে সে হোটেলটি হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় হোটেল ও ভারতের দালাল বলে প্রমাণিত হবে। সেই হোটেলটিকে সারা দেশব্যাপী বর্জনের ডাক দেয়া হবে।

সমাবেশের এক পর্যায়ে সাধারণ জনগণ প্রতিবাদে অংশ নেয়। এবং হোটেলের কর্তৃপক্ষের নজরে আনে। এক পর্যায়ে হোটেল মালিক কর্তৃপক্ষ তাদের এতদিনের নো-বীফ নীতি থেকে সরে এসে হোটেলে গরুর গোশত রাখবে বলে ঘোষণা দেয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর