• চট্রগ্রাম দেশজুড়ে
  • ঠাকুরছড়ায় বৈসু উৎসবের সমাপনী উপলক্ষে বলিখেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ঠাকুরছড়ায় বৈসু উৎসবের সমাপনী উপলক্ষে বলিখেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

প্রকাশিত: ৫:০০ পূর্বাহ্ণ , ৪ মে ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের ঠাকুরছড়া নতুন বাজার মাঠে ‘আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের পরিচয়’ এই প্রতিপাদ্যে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মাসব্যাপী বৈসু উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলিখেলা, বিভিন্ন খেলাধুলা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শনিবার (৩ মে ২০২৫) বিকেলে ঠাকুরছড়া বৈসু উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়সহ আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সহস্রাধিক মানুষ মিলিত হন উৎসবের আনন্দে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অব.) দীনময় রোয়াজা, প্রাক্তন জেলা সমবায় কর্মকর্তা রত্ন কান্তি রোয়াজা, খাগড়াছড়ি উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রবি শংকর তালুকদার, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত ত্রিপুরা বিবিৎসু, বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদের খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রেভিলিয়াম রোয়াজা প্রমুখ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বৈসু উদযাপন কমিটির সভাপতি ননী ব্রত ত্রিপুরা এবং সঞ্চালনায় ছিলেন স্থানীয় সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উদযাপন কমিটির সদস্য পুলক নারায়ন ত্রিপুরা।

স্বাগত বক্তব্যে তিনি জানান, বৈসু উপলক্ষে আয়োজিত খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে মোট ১৪৫টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি আরও বলেন, ঠাকুরছড়া একটি ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা অধ্যুষিত গ্রাম, যেখানে বর্তমানে ২৪৫টি পরিবার বসবাস করে। গ্রামের অতীত ইতিহাস গৌরবময় হলেও সময়ের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই সে ইতিহাসকে সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বক্তারা বলেন, ঠাকুরছড়া শুধু একটি গ্রামের নাম নয়, এটি ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত অনেক ব্যক্তিত্বের শিকড় এ গ্রামে। তাই এ এলাকার ঐতিহ্য ও উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

আলোচনা পর্বের আগে মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘বলি খেলা’। এতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সাতজন তরুণ ক্রীড়াবিদ অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ফাইনাল রাউন্ডে সৃজন চাকমা প্রথম স্থান, ইতিয়ন চাকমা দ্বিতীয় স্থান ও মিন্টু ত্রিপুরা তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের মাঝে বলিখেলা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার পুরস্কার তুলে দেন।

পরে সন্ধ্যায় মঞ্চে শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর স্বনামধন্য ব্যান্ড দল ও নৃত্যশিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী গানের পাশাপাশি পরিবেশন করেন লোকনৃত্য। উৎসবে ত্রিপুরা ছাড়াও মারমা, চাকমা, বাঙালি সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

উৎসবের এই আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চা, আন্তঃসম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর