
ইমরান হাসান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী-জয়দা-রঘুনাথপুর সড়কে ভয়াবহ খানাখন্দ ও কাঁদা-পানি মাড়িয়ে চলাচলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
বুধবার বিকেলে অলহরী ঘাটপাড় থেকে জয়দা হয়ে রঘুনাথপুর পর্যন্ত সড়কের অলহরী দুর্গাপুর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন—“ত্রাণ চাই না, রাস্তা চাই”, “চলার পথ মসৃণ চাই”, “নিষ্কাশনের পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের শাস্তি চাই”।
ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েক বছর ধরে সড়কের বেশিরভাগ অংশে জলাবদ্ধতা ও কাঁদা-পানির কারণে জনদুর্ভোগ চরমে। অলহরী, জয়দা, মঠবাড়ী, দুর্গাপুরসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই এ পথ দিয়ে চলাচল করেন। বর্ষায় এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে থাকে। পানি নেমে গেলে রয়ে যায় বড় বড় গর্ত, কাদা ও ভাঙাচোরা রাস্তা—যা হেঁটে চলা ও যানবাহন উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক।

শুষ্ক মৌসুমেও দুর্ভোগ কমে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছের গাড়ির পানি এবং মাটিবোঝাই গাড়ির চাপে রাস্তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ও যানবাহন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে। দ্রুত এ সড়ক সংস্কার করে চলাচলযোগ্য করার দাবি জানান তারা।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রোগী পরিবহন, মালামাল আনা–নেওয়া, কর্মজীবী মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত—সবকিছুই এখন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জয়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, “প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে হয়। কাদা-পানির নিচে গর্ত দেখা যায় না—অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা জরুরি।”
একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলেন, “এলাকাটি বন্যাপ্রবণ না হলেও বছরের পর বছর পানিবন্দি হয়ে থাকতে হয়। কাঁদা আর গর্তে পড়ে আঘাত পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। আমাদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।”
সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“এই রাস্তা দিয়ে আমরা বাজার করি, রোগী নেই, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে—সবই এই পথ। এখন এমন অবস্থা হয়েছে, রিকশা–অটোরিকশা কোনো যানবাহনই ঠিকমতো চলে না। রাস্তা দ্রুত মেরামত না হলে মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।”
জয়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিরাপদ সড়ক খুবই প্রয়োজন। ভাঙাচোরা রাস্তা ও কাদা তাদের প্রতিদিনের যাতায়াতে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা জরুরি, নইলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “আমি সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলায় যোগদান করেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে সরিয়ে দিল...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...