
দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়িঃ টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়িতে এখনো বন্যা পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি কমলেও অনেক নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়িতে এখনো পানি রয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।
বন্যার কারণে খাগড়াছড়ি শহরের নিচের বাজার, বটতলী, মহিলা কলেজ এলাকা, টিটিসি, রাজ্যমনিপাড়া, গঞ্জপাড়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক এবং খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় গত দুই দিন যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বন্যার পানিতে দীঘিনালার ৩৩ কেভি উপকেন্দ্র প্লাবিত হওয়ায় দীঘিনালা ও সাজেকে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা শুক্রবার সকালে জানান, সদর উপজেলার এম এ হক মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার রাতে ১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে খাগড়াছড়ি পৌরসভা সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরও জানান, সদর উপজেলার সবুজবাগ ২ নম্বর ওয়ার্ডের ২০টি পরিবার এবং শালবন এলাকার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে পড়ার খবর পাওয়ার পর ট্যাগ অফিসার ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরে পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউএনও বলেন, ‘পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ইউনিয়নভিত্তিক পৃথক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’
এর আগে জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে। দীঘিনালা উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় সাজেক পর্যটন এলাকায় আটকে থাকা ৪২১ জন পর্যটককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে বাঘাইহাট হয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে ১০১টি ছোট-বড় যানবাহনে তারা নিরাপদে যাত্রা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় আর কোনো পর্যটক অবস্থান করছেন না।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যা ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার উপহার বিতরণ
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন! ক্ষেতলালে...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে...
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা পৌরবাসীর
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা...
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা...
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার
অমিতাভ বচ্চনকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ আদালতের
অমিতাভ বচ্চনকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ আদালতের