দপ্তরের দ্বন্দ্বে অবরুদ্ধ ত্রিশালের সড়ক, ভোগান্তিতে জনসাধারণ

প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ , ২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ব্যস্ততম ত্রিশাল–পোড়াবাড়ী সড়কের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের বাইরে পড়ে আছে। এলজিইডি ও পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় প্রায় ৫০ মিটার সড়ক এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

জানা গেছে, সড়কটির প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার অংশ এলজিইডির আওতায় এবং বাকি দেড় কিলোমিটার ত্রিশাল পৌরসভার অধীনে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে পৌরশহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।

পৌরসভার শেষ সীমান্তের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইপাস সড়কের সংযোগস্থল চিকনা মোড় থেকে পৌরসীমা পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিটার অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা। সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে হাঁটুসমান পানি জমে, যা চলাচলকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অংশটি এলজিইডি ও পৌরসভার মধ্যবর্তী সীমারেখায় পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ ঝুলে আছে।

অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডি তাদের অংশের কাজ শেষ করে বিল উত্তোলন করলেও এই অংশটি অসমাপ্ত রেখেই কাজ সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, এটি পৌরসভার আওতার বাইরে হওয়ায় তারাও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে দুই দপ্তরের ‘চিপায়’ পড়ে সড়কটির এই অংশ অবহেলায় পড়ে আছে।

অটোরিকশা চালক বাদল মিয়া বলেন, “এই রাস্তায় চলতে গেলে প্রতিদিনই গাড়ির ক্ষতি হয়। যাত্রী তুলতেও ভয় লাগে—কখন দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না।”

সিএনজি চালক মনির হোসেন বলেন, “বর্ষা এলে এখানে ছোট পুকুরের মতো পানি জমে। তখন বাধ্য হয়ে ঘুরপথে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে।”

ট্রাক চালক রুবেল মিয়া বলেন, “এই অংশে ঢুকলেই গাড়ি দুলতে থাকে। ভারী যান নিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”

এ বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার দেবনাথ বলেন, ওই অংশটুকু পৌরসভার অংশ না। ওই অংশটা ইউনিয়ন পরিষদের অংশ। ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা এলজিইডি বাস্তবায়ন করে থাকে। এরপরেও অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে পুরা রাস্তাটা আমরা করার চেষ্টা করবো।

তবে ওই অংশ নিয়ে আমাদের(দুই দপ্তরের) কোনো রেশারেশি নেই। বরাবরই ওই রাস্তাটা এলজিইডিই করে থাকে। আমরা এডিবির অর্থায়নে গত অর্থবছরে কিছু ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করে দিছি।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, “আমি আসার পরে ওই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। তাই ওই রাস্তার সীমানা আমার জানা নেই। আগের সংস্কার কে – কিভাবে করেছে তাও আমার জানা নেই। এখানে দায় নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয় আসবে কেন? ওই অংশটুকু যদি আমাদের মধ্যে পড়ে তবে আমরা কাজ করে দেবো।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “আসলে আমারও জানা নাই এই জায়গাটুকু এটা কি পৌরসভার না এলজিইডি’র। তো ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সাথে কথা বলে বিষয়টা জেনে তারপরে বলতে পারবো। এই রাস্তা যারই হোক, রাস্তা তো করতে হবে। ত্রিশালের মধ্যেই তো পড়ছে।

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর