দীঘিনালায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ , ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিষদ সেমিনার কক্ষে জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে “Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh” শীর্ষক প্রকল্পের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি জেলার নয়টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাবারাং কল্যাণ সমিতি।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ। সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপজেলা সমন্বয়কারী মিহির কান্তি ত্রিপুরা অতিথিদের স্বাগত জানান এবং প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমের পরিচিতি তুলে ধরেন। পরে জাবারাং কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা।

এছাড়া হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র নিউট্রিশন অফিসার রিমি চাকমা সংস্থাটির উদ্যোগ সম্পর্কে এবং এফআইভিডিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনিরুদ্ধ কুমার সরকার প্রকল্পে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন।

পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এতে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে।

আলোচনায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৫০০টি পরিবারকে লেট্রিন সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত ৬০টি পরিবারের জন্য লেট্রিন স্থাপনের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডা. মাজেদুল ইসলাম বলেন, নতুন ভবন এখনো হস্তান্তর না হওয়ায় তীব্র মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত (স্যাম) শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘স্যাম কর্নার’ চালু করা সম্ভব হয়নি।

সভায় বিভিন্ন অংশীজন প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এমইউএসি (MUAC) স্ক্রিনিং কার্যক্রম, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সীমিত জনবল নিয়ে দুর্গম এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। জবাবে উপজেলা সমন্বয়কারী মিহির কান্তি ত্রিপুরা জানান, কমিউনিটি নিউট্রিশন প্রমোটারদের সমন্বয়ে দল গঠন করে দুর্গম এলাকায় গিয়ে শতভাগ স্ক্রিনিং নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা জানান, জিপিএস-ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রায় দুই মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫ বছরের কম বয়সী ৬ হাজার ৬৬২ জন শিশুর এমইউএসি স্ক্রিনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো এলাকা বা পরিবার এখনো এ কার্যক্রমের বাইরে থেকে থাকলে তা জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, গভীর নলকূপ স্থাপনের অর্থায়ন এফআইভিডিবির বরাদ্দ থেকে করা হবে এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্পের বরাদ্দ কেবল ৬০টি প্রান্তিক পরিবারের জন্য লেট্রিন স্থাপনে ব্যয় করা হবে।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, হেডম্যান, কার্বারি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য লিখুন