• অপরাধ খুলনা
  • পাইকগাছায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন

পাইকগাছায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ , ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 hours আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খুলনার পাইকগাছায় কুমারেশ বাওয়ালী টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে নিয়োগের নামে অর্থ আদায়, আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে প্রয়াত শিক্ষানুরাগী কুমারেশ বাওয়ালীর নামে তার ছেলে দিবাকর বাওয়ালী উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের কালীনগর-দারুণমল্লিক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক লাখ টাকা করে নেওয়া হলেও অনেককে নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, তাদের কারো কাছ থেকে ছয় লাখ, কারো কাছ থেকে আট, নয় কিংবা ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয় বলেও দাবি তাদের। অভিযোগকারীদের আরো দাবি, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয় না।

পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মতামত ছাড়াই সভাপতি একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করেও তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এমপিওভুক্তির নামে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ দিবাকর সানার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঐ অর্থ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিচালনা কমিটির সভা না ডেকে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পবন কুমার মন্ডলকে সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পবন কুমার মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি দিবাকর বাওয়ালী দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গণস্বাক্ষরসংবলিত আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ালিউজ্জামান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর