​পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ: সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ , ৬ জুন ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো. সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা, সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বেনাপোলের স্থানীয় এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) বিকাল ৩টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্টের আলাউদ্দিন সুপার মার্কেটে অবস্থিত নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘কাজী ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল’-এ আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সোহাগ আলী (৩৪)।

তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে এবং চেকপোস্ট রেন্ট এ-কার, আবাসিক হোটেল ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির স্বত্বাধিকারী।

​উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোহাগ আলী জানান, পেশাগত সততা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোলে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. কুতুব উদ্দীন আশা (৩০) এবং তার আপন ভগ্নিপতি মো. সাইদুর রহমান সাইদ (গ্রাম: গাতিপাড়া)-র নিকট ব্যবসায়িক সূত্রে তার ৪৮,৮৩,০০০/-(আটচল্লিশ লাখ তিরাশি হাজার) টাকা পাওনা রয়েছে। এই পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

গত ১ বছর পূর্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সালিস-মিমাংসা হলেও ১নং আসামি কুতুব উদ্দীন আশা টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ঘোরাতে থাকেন।

​লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাওয়ায় কুতুব উদ্দীন আশা তার মোবাইল ফোনে তাকে বিভিন্ন ধরনের কটু কথা ও ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় এর ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ৫ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:১৫ মিনিটে কুতুব উদ্দীন আশাসহ অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বড় আঁচড়া গ্রামস্থ শেখ মার্কেটস্থিত “ছোট্টু রেন্ট এ কার” ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে।

সেখানে তাকে না পেয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে তাকে জানমালের ক্ষতি করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
​
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এখানেই শেষ হয়নি। ওই একই দিন (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০:২০ মিনিটে কুতুব উদ্দীন আশার নেতৃত্বে উক্ত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলটি বড় আঁচড়া গ্রামে সোহাগ আলীর ভাড়াটে বসত বাড়ির নিচে এসে সমবেত হয়।

তারা বেআইনি জনতাবদ্ধে পিস্তল, লোহার রড, লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিবারকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

​একপর্যায়ে, সোহাগ আলী জীবনভয়ে ঘরের বাইরে না আসায় কুতুব উদ্দীন আশার নির্দেশে সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে ঘরের প্রধান দরজায় লক্ষ্য করে ১ রাউন্ড এবং ঘরের থাই গ্লাসে লক্ষ্য করে ২ রাউন্ডসহ সর্বমোট ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।

বিকট শব্দে গুলিবর্ষণের ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ঘরের থাই গ্লাস ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। সন্ত্রাসীরা মেইন গেটে সজোরে আঘাত করতে করতে চিৎকার করে বলতে থাকে— “তুই বাহির বের হ, তোকে আজকে খুন করে ফেলবো।” এই ভয়াবহ তাণ্ডব ও হুমকি দিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পরপরই বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবহৃত ২টি গুলির খোসা এবং ১টি গুলির অংশবিশেষ উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রমজান আলী (৩০) ও মো. আইয়ুব (৩৫) সহ সাধারণ জনগণের সম্মুখে রাত ১০:৫০ মিনিটে বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ জব্দ করে পুলিশ।

এই ঘটনায় ব্যবসায়ী সোহাগ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি নিয়মিত এজাহার দায়ের করেছেন।
​
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে সোহাগ আলী বলেন, “আজ আমি আমার নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ এবং চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। যেকোনো সময় এই সন্ত্রাসীরা আমার বা আমার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।”

​তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে প্রশাসনের নিকট এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কুতুব উদ্দীন আশাসহ এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জন সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের লেখনীর মাধ্যমে দেশবাসী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আকুল আবেদন জানান তিনি।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর বাড়ি পরিদর্শণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর