
শেখ সালমান আহমেদ, মধুখালীঃ চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ব্যাপকহারে ধান চাষ হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঠের পর মাঠ ধান আবাদ করেছেন কৃষকেরা।
চাষের শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ে বৈরি আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, এখন শেষ সময়ে মৃদু বর্ষণ, ভারী বর্ষণ বা শীলাবৃষ্টি হলে মাঠেই মারা যাবে লাখো কৃষকের স্বপ্ন। ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় বর্তমানে ধান সোনালী রং ধারণ করেছে।
যেসকল চাষিরা আগাম ধানের চারা রোপন করেছিলেন তারা ফসল কর্তন করছেন, তবে কিছু কিছু জায়গায় ধানের গাছ এখনো কর্তনের উপযোগী হয়নি। সেসকল জায়গায়ও আগামী ৩ – ৫ দিনের মধ্যে সকল ধান কর্তন উপযোগী হবে বলে চাষিরা আশাবাদী রয়েছেন।
সারাদেশের ন্যায় ফরিদপুরেও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য সরকারী প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছিলো। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা যথাসময়ে ধানের বীজ ও সার পেয়েছেন এবং আগামীতে তারা ধান চাষে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবেন।
এবিষয়ে মধুখালী উপজেলার কৃষিবিদ মাহাবুব ইলাহী গণমাধ্যমে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা সময়মত বীজটা দিতে পারছি, যেটা কৃষক কাজে লাগাতে পেরেছে এবং আমাদের যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটা খুবই ফলপ্রসূ হবে বলে আমার বিশ্বাস”।
তিনি আরো বলেন, “প্রতিটি মৌসুমে সরকারীভাবে কিছু ফসল ক্রয় করা হয়ে থাকে, বাজারদর বেশি হলে কৃষক কখনোই সরকারী গোডাউনে বিক্রি করতে ইচ্ছুক থাকেনা তবুও যারা ইচ্ছুক থাকবে তারা উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে বিক্রয় করতে পারবেন”।
উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম নামে এক চাষি বলেন, “এবছর ধানের আবাদ যথেষ্ট ভালো হয়েছে, যদিও শুরুতে অতিবৃষ্টি ও মাঝামাঝি সময়ে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তবে সামনে কর্তনের আগে পরে কোনো সমস্যা না হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশ কমে আসবে”।
এছাড়াও আরো কয়েকজন চাষী বলেন, “আমরা মূলত কৃষিনির্ভর জাতিগোষ্ঠি, দেশের মোট জনসংখ্যার বিরাট একটা অংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল।
আমরা চাই সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের যথাযথ মূল্যায়ন করুক এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি সরঞ্জামসহ সার কীটনাশক সাশ্রয়ী মূূল্যে কৃষকদের দ্বারে পৌঁছে দেবার সুব্যবস্থা করুক”।
মধুখালী উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইশা মোল্যা বলেন, “সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কৃষকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে মৌসুমভিত্তিক ফসলের বীজ ও সার পৌঁছে দেবার জন্য যাচাই বাছাই করে তালিকা প্রণয়ন ও মাঝেমাঝে কৃষদের নিয়ে উঠান বৈঠক করছি এবং আগামীতে উপজেলা কৃষি অফিসারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে”।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে সরিয়ে দিল...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...