• খুলনা দেশজুড়ে
  • বেনাপোলে “স্বপন বড়ুয়া বৌদ্ধ বিহার” এ শুভ কঠিন চিবর দানোৎসব-২০২৫ উদযাপণ

বেনাপোলে “স্বপন বড়ুয়া বৌদ্ধ বিহার” এ শুভ কঠিন চিবর দানোৎসব-২০২৫ উদযাপণ

প্রকাশিত: ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ , ২৯ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- দুঃখের সত্য, দুঃখের কারণ, দুঃখের অবসান ঘটে- উপলব্ধি, অন্বেষণ, বোঝা এবং পরীক্ষা করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সম্যক সমবুদ্ধের প্রশংসিত বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠতম ধর্মীয় উৎসব “দানোৎসব”-২০২৫,শুভ কঠিন চিবর উদযাপিত হয়েছে।

বুধবার(২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে এ উৎসব উদযাপিত হয় বেনাপোল বন্দর সংলগ্ন গাজীপুর গ্রামস্থ গোলদার মসজিদ সংযোগ সড়কের পাশে অবস্থিত “স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী বৌদ্ধ বিহারে। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে “স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী বৌদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাদের সমন্বয়ে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। বাদ্য যন্ত্রের তালে তালে র‍্যালি টি বেনাপোলের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।

“স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী বৌদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাবৃন্দের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার পুলিশ সুপার রওনক জাহান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- ভদন্ত বোধিমিত্র মহাস্থবির, আবাসিক প্রধান, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্র ও বৌদ্ধ বিহার, আশুলিয়া, ঢাকা। :

অনুষ্ঠানটিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উদ্বোধক-ভদন্ত শীল রক্ষিত ভিক্ষু, অধ্যক্ষ, স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী বৌদ্ধ বিহার, বেনাপোল। প্রধান ধর্মদেশক – ভদন্ত ড. অরুন জ্যোতি মহাথের, সভাপতি, টালিগজ্ঞ ম্যুর এভিনিউ বুদ্ধ সমিতি, কোলকাতা। মুখ্য আলোচক- ভদন্ত মেত্তাবিহারী ভিক্ষু, উপ-বিহারাধ্যক্ষ, বায়েজিদ থানা কেন্দ্রীয় শাভিকুঞ্জ বৌদ্ধ বিহার, চট্টগ্রাম।

বিশেষ অতিথিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডা. কাজী নাজিব হাসান, প্রশাসক, বেনাপোল পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শার্শা, যশোর, মানিক কুমার সাহা, অফিসার ইনচার্জ, বেনাপোল পোর্ট থানা, যশোর এবং এস এম শাখাওয়াত হোসেন অফিসার ইনচার্জ, বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, যশোর।

সন্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বকুল মাহবুব(সাধারণ সম্পাদক,বেনাপোল প্রেসক্লাব)।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, “সিদ্ধার্থ গৌতম” বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি শাক্য রাজবংশের এক ক্ষত্রিয়-ব্রাহ্মণ পরিবারে রাজপুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর সময়কাল নিয়ে এখনও অনেক ইতিহাসবেত্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

কিন্তু অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তাগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেনই যে, ৪০০ খৃষ্টপূর্বের কিছু দশক আগে বুদ্ধ মারা গিয়েছিলেন। তাঁর শাক্য-ক্ষত্রিয় বংশের পরিবারগণ ব্রাহ্মণ গোত্রের ছিল, যা তাঁর পরিবার কর্তৃক প্রদানকৃত নাম “গৌতম” দ্বারা নির্দেশিত।

ঊনবিংশ শতাব্দির পণ্ডিত “এইতেল”-এর মতে, সিদ্ধার্থ গৌতমের নাম গৌতম শব্দটি এক ব্রহ্মর্ষি গৌতম থেকে অনুপ্রাণীত। অনেক বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত আছে যে, বৌদ্ধ ছিলেন ব্রহ্মর্ষি অঙ্গিরসের বংশধর।

লেখক এবং ইতিহাসবেত্তা এডওয়ার্ড জে. থমাসও বুদ্ধকে ব্রহ্মর্ষি গৌতম এবং অঙ্গিরসের বংশধর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৌদ্ধ পরম্পরাগত মতবাদানুযায়ী, সন্ন্যাসী জীবনযাপন ও ধ্যানের মধ্য দিয়ে সিদ্ধার্থ গৌতম ভোগপরায়ণতা এবং স্ব-রিপুদমনের একটি সংযমী পথ আবিষ্কার করেছিলেন।

সিদ্ধার্থ গৌতম সিদ্ধিলাভ করেছিলেন মূলত একটি অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচে যেটি বর্তমানে ভারতের বুদ্ধ গয়ায় বোধি বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। সিদ্ধিলাভের পর থেকে গৌতম বুদ্ধ “সম্যকসমবুদ্ধ” বা “আলোকিত ব্যক্তিত্ব” হিসেবে পরিচয় লাভ করেছিল।

তৎকালীন মগধ রাজ্যের সম্রাট বিম্বিসারের শাসনামলে বৌদ্ধ তাঁর ধর্ম প্রচারে পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন। সম্রাট বিম্বিসার তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয়-বিশ্বাস হিসেবে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর রাজ্যে অনেকগুলো বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের আদেশ প্রদান করেছিলেন। আর এই বিহারগুলোই বর্তমান ভারতের বিহার অঙ্গ-রাজ্যের নামকরণে ভূমিকা রেখেছিল।

বুদ্ধ তাঁর অবশিষ্ট জীবনের বছরগুলোতে ভারতের উত্তরাঞ্চল ও অন্যান্য গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলগুলোতে পরিভ্রমণ করেন।
বুদ্ধ কুশীনগরের পরিত্যক্ত এক জঙ্গলে দেহত্যাগ বা মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।

মারা যাওয়ার পূর্বে বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের বলে গিয়েছিলেন যে, তাঁর প্রচার করা ধর্মীয়দেশনাই হবে তাদের শাস্তা যা তাদের দিক-নির্দেশনা প্রদানে সহায়তা করবে। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর হতে বুদ্ধবাণীকে সংরক্ষণের জন্য শত শত অরহত পণ্ডিত ভিক্ষু তিনটি সঙ্গায়নের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ত্রিপিটক সংকলিত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর