• খুলনা দেশজুড়ে
  • ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও পুলিশ কনস্টেবল জুয়েলের বহিষ্কার দাবিতে শার্শায় বিশাল মানববন্ধন

‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও পুলিশ কনস্টেবল জুয়েলের বহিষ্কার দাবিতে শার্শায় বিশাল মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ , ৭ জুন ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- যশোর জেলার শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর নামে দায়েরকৃত মামলাটিকে “মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক” দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে এবং এক পুলিশ কনস্টেবলের বহিষ্কার চেয়ে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

​আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের শার্শা উপজেলা পরিষদের সম্মুখে শার্শা উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে দলটির শতশত নারী ও পুরুষ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
​
​আন্দোলনকারীরা পুলিশ কনস্টেবল মামুন হাসান জুয়েলের চরম শাস্তি ও পুলিশ বাহিনী থেকে বহিষ্কার দাবি করেছেন। জুয়েলকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে “১৬ বছরের লালিত সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট, আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলার অন্যতম আসামি ও চোরাচালানি মশিউর রহমানের ছেলে” এবং “ছাত্রলীগের ক্যাডার” হিসেবে উল্লেখ করে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীতে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এই কনস্টেবল জুয়েলের ষড়যন্ত্রেই বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

শার্শা কৃষকদল সভাপতি আমিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে তাঁরা যে অন্যায় ও অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েছেন, তা সত্ত্বেও তাঁরা শার্শা উপজেলায় বিভিন্ন গঠনমূলক ও প্রগতিশীল কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট মহল বা আওয়ামী লীগের দুঃশাসন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্রের জাল বুনে পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন,​১৫/১৬ বছরের লালিত সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট এবং আলোচিত মামলার আসামিদের পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ এবং এ ধরনের ব্যক্তিদের পুলিশ বাহিনী থেকে দ্রুত বহিষ্কারের জোর দাবি জানান।

শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ অভিযোগ করে বলেন, শার্শা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু কে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

গত দু’দিন আগে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় “জাতীয়তাবাদী শক্তি” ও গ্রামবাসী মিলে সেই “অপশক্তিকে” রুখে দিয়েছিল।

​তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে সারা বাংলাদেশে তাদের প্রায় ৬০ লক্ষ নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

তাদের অনেক নেতা-কর্মীকে নির্যাতন করে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, আয়নাঘরে বছরের পর বছর গুম করে রাখা হয়েছে এবং এর ফলে অনেকেই আজ হাত বা পা হারিয়েছেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে জনপ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা না হয় এবং বিতর্কিত পুলিশ সদস্য জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামীতে শার্শাবাসীকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

​মানববন্ধন চলাকালে শতশত নেতাকর্মীর মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের পাশে এবং উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষের অবস্থানের কারণে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে মহাসড়কের দুপাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় যানবাহন আটকে পড়ে।

​তীব্র গরমে আটকে পড়া সাধারণ যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে একপর্যায়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে যানবাহনগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলের সুযোগ করে দেন এবং যানজট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।