১৯ লাখে ‘জালাল মঞ্চ’ অসমাপ্ত সমালোচনার মুখে ইউএনও দিলেন ব্যাখ্যা

প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ , ২২ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত ‘জালাল মঞ্চ’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পৌরসভার এডিবি ফান্ড থেকে বরাদ্দকৃত অর্থে মঞ্চটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি এখনও। প্রায় ১৯ লাখ টাকা ব্যয় সত্ত্বেও নির্মাণ অসমাপ্ত থাকায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা, ব্যয় ও মালিকানা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন মহল।

পৌর ফান্ড, উপজেলা ফলক:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একুশে পদকপ্রাপ্ত মরমি বাউল সাধক জালাল উদ্দিন খাঁ’র নামে ‘জালাল মঞ্চ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। তবে প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ এসেছে কেন্দুয়া পৌরসভার এডিবি ফান্ড থেকে। কিন্তু নামফলকে উপজেলা প্রশাসনের নামই প্রধানভাবে উল্লেখ থাকায় বরাদ্দ ও স্বীকৃতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

এছাড়া মঞ্চটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও শিল্পীদের প্রবেশাধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় শিল্পীরা অভিযোগ করেছেন, “মঞ্চটি জনগণের অর্থে নির্মিত, অথচ ব্যবহারের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়।”

‘সংস্কৃতির রাজধানী’ কেন্দুয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্য:

কেন্দুয়াকে সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পরও এলাকায় এখনো কার্যকর শিল্পকলা একাডেমির কমিটি নেই। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এমন এক মঞ্চ যদি সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হতো, তাহলে অর্থের সঠিক ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন এটি শুধুই ফলকনির্ভর প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।”

ব্যয় ও ধারকর্জ নিয়ে প্রশ্ন:

প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও নির্মাণকাজে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ধারকর্জ করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি কাজ শেষ করতে আরও অর্থ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

একজন স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠক বলেন, এত টাকা খরচ করেও যদি মঞ্চ অসমাপ্ত থাকে, তাহলে স্বচ্ছতা কোথায়?

 

ইউএনও’র ব্যাখ্যা :

সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, মঞ্চটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ সীমিত ছিল, তাই পুরো কাজ একসাথে শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম নেই। অতিরিক্ত কাজের জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জালাল উদ্দিন খাঁ এই অঞ্চলের গর্ব। তাঁর নামে একটি স্থায়ী মঞ্চ করা আমাদের সাংস্কৃতিক দায়িত্ব। এটি কেবল প্রশাসনের নয়, জনগণেরও মঞ্চ হবে।

স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পনার ঘাটতি ও সঠিক তদারকির অভাবে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত রূপ পায়নি। তারা বলছেন, যেখানে সংস্কৃতিচর্চা নেই, সেখানে মঞ্চ নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

জালাল উদ্দিন খাঁ’র মতো কিংবদন্তি শিল্পীর নামে নির্মিত ‘জালাল মঞ্চ’ সংস্কৃতির আলো জ্বালবে, এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু নির্মাণ ব্যয়, ফলক বিতর্ক ও ব্যবহার জটিলতা মিলিয়ে সেটি এখন পরিণত হয়েছে কেন্দুয়ার নতুন আলোচিত বিষয়ে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর