
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড়ঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার এক নিভৃত পল্লীতে দু’পাশে ফসলি জমি, মাঝখানে ছোট ক্যানেল। তার আশপাশে নেই কোন সংযোগ সড়ক যদিও কৃষকদের ব্যক্তিগত চলাচলের ৫ফুট প্রস্থের একটি সরু রাস্তা দেখা গেলেও সেতুর একপাশে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট দুরে রয়েছে সেই সরু রাস্তাটি।
অথচ বর্ষায় কৃষকদের কেবল পারাপারের জন্য অপরিকল্পিতভাবে ছোট ক্যানেলের ওপর ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি সেতু। কী কারণে রাস্তাবিহীন এত বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে বা হয়েছে এলাকার মানুষ তা জানে না।
জানা যায়, উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের উত্তরে কবরস্থান সংলগ্ন হাকিমপুর-দগরবাড়ী থেকে বয়ে আসা একটি ক্যানেলের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে এই সেতুটি। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পারা যায়, সেতুটি যে উচ্চতায় নির্মাণ করা হচ্ছে এতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় বেশি হবে। কেননা সেতুটির একপাশে কিছুটা দুরে অনেকাংশ নিচে চলাচলের সরু রাস্তা থাকলেও অপরপাশে নেই কোনো রাস্তা। সেতুর অ্যাবাটমেন্টের ঠিক নিচেই রয়েছে আবাদি জমি। অনেকেই বলছেন বর্ষায় কৃষকদের যাতায়াতের জন্য ছোটো খাটো কালভার্টের ব্যবস্থা করলেই চলতো সরকারের এত টাকা লস করে কেবল একগ্রামের কৃষকদের জন্য এই বড় ব্রিজের দরকার ছিলনা।
আর এই সেতুর সঙ্গে কোনো সড়কের সংযোগ নেই অহেতুক সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। সেতুটির দু’পাশে সড়কের বদলে রয়েছে আবাদী জমি। ফলে সড়কবিহীন এ সেতু নির্মাণের পর সড়কের ব্যবস্থা না করা হলে কোনো কাজেই আসবেনা বলে জানান স্থানীয়রা।
মন্ডলপাড়া গ্রামের আল আমিন ও সাব্বির বলেন, ‘এত বড় সেতুর প্রয়োজন ছিলনা যদিও প্রয়োজন ছিল এখানে কিন্তু চলাচলের কোনো রাস্তার ব্যবস্থা নেই। আসলে এখানে কালভার্ট হতেও পারতো কিন্তু এখানে এত বড় সেতুর প্রয়োজন ছিলনা। যদিও প্রয়োজন আছে এখন আমাদের কৃষক মানুষদের যাতাযাতের রাস্তার ব্যবস্থা করে দিলে অনেক সুবিধা হতো।’
তারা আরও বলেন, সেতুর দু’পাশে ব্যক্তিগত মানুষের জমি। ব্যক্তিগত জমি রাস্তা বানাতে কেউ দিবেন কিনা। তবে রাস্তা নির্মাণ না করা হলে সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় বেশি হবে। আর এ সেতুটি প্রায় ৩মাস ধরে এই অবস্থায় পড়ে আছে।
ওই এলাকার কৃষক ওমর ফারুক বলেন, ফসলি ক্ষেতে যাতায়াত করার জন্য, ধান বা পাটসহ অন্যান্য ফসল আনা নেওয়া করার জন্য এবং পায়ে হাঁটার জন্য আমাদের নিজেদের উদ্যোগে পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা আছে। আর ক্যানেলে ওপর দিয়ে যাতায়াত করার জন্য এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু সেতুর দু’পাশে সংযোগ সড়ক তো নির্মাণ করা হয়নি। তাহলে এভাবে সরকারি অর্থ অপচয় করার কী প্রয়োজন ছিলো। রাস্তা নির্মাণ না করা হলে সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় বেশি হবে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‘আ’ আদ্যক্ষরের এক বৃদ্ধা জানান, ‘সেতু নির্মাণের সময় দু’পাশে ৫০ ফুটের রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলছে হয়তো দিতে পারে, যদি রাস্তা নির্মাণ না হয় তবে সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় বেশি হবে।’
সরেজমিনে জানা যায়, সেতুটির পূর্ব পাশে কবরস্থান, আইবুল ও দুলুসহ কয়েকজন কৃষকের জমি রয়েছে। পশ্চিমে সেতুর অ্যাবাটমেন্টের ঠিক নিচেই রবিউলের জমি যার বর্গাচাষি হচ্ছেন শাহজাহান আলী। সেতু নির্মাণের সময় ক্যানেলের বাধ গুলোও কেটে ফেলা হয়েছে। এতে বর্ষায় পানির আরও প্রসারিত হবেন বলে কৃষকদের দাবি।
এ ব্যাপারে ওই সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানিয়া কনস্ট্রাকশনের মালিকের নাম ও মোবাইল নম্বর প্রেরিত তথ্যে উল্লেখিত না থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম শাহ বলেন, এটি গত অর্থ বছরের বরাদ্দ তখন আমি এখানকার দায়িত্বে ছিলাম না। আমি দায়িত্বে থাকলে সড়ক ছাড়াই এই সেতু নির্মাণ করতে দিতাম না। তবে সেতুর ক্যানেলের ধার দিয়ে রাস্তার ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে সেতুটি দেখার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ধামইরহাটে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
ধামইরহাটে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
৪নং ওয়ার্ডে ২য় দিন: গণসংযোগে আস্থা বাড়ছে ভোটারদের
৪নং ওয়ার্ডে ২য় দিন: গণসংযোগে আস্থা...
সাভারে মদ তৈরির কারখানায় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার
সাভারে মদ তৈরির কারখানায় চীনা নাগরিক...
দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়তে হবে ঘর থেকেই: রাষ্ট্রপতি...
দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়তে হবে ঘর...
গোয়াইনঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা...
গোয়াইনঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে...